একজন গরিব কবিঃ সংসার চালাতে ট্রাক থেকে বালু নামান, অবসরে কবিতা লিখেন ।

গরিব কবি’ হিসেবে পরিচিত গুলজার হোসেন গরিব। তিনি পেশায় বালু শ্রমিক। শহরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাক থেকে বালু নামিয়ে যায় আয় হয় তা দিয়েই সংসার চালান। সারাদিন কঠোর পরিশ্রমের পর সামান্য অবসর সময় পেলেই লিখে ফেলেন কবিতা। সুযোগ পেলে আবৃত্তিও করেন। এ পর্যন্ত ২৪০০ কবিতা লিখেছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মহারাজপুর গ্রামের গুলজার হোসেন গরিব।

শুধু তাই নয়, ২১০টি গানের পাশাপাশি ১০টি প্রবন্ধও লিখেছেন চতুর্থ শ্রেণির গণ্ডি না পেরোনো এ শ্রমিক। আর্থিক দৈন্যতার কারণে মহারাজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময়ই শিক্ষাজীবনের ইতি টানেন গুলজার হোসেন। ১০ বছর বয়স থেকেই কৃষিকাজে বাবাকে সহযোগিতা করতে শুরু করেন। বয়স কিছুটা বাড়লে শুরু হয় জীবন সংগ্রাম। আইসক্রিম বিক্রি, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন তিনি।

কবিরাজ: তপন দেব,সাধনা ঔষধালয় । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- আমাদের এখানে নারী ও পুরুষের সকল #যৌন_রোগ সহ জটিল ও কঠিন রোগের সু চিকিৎসা করা হয়।
বিঃ দ্রঃ আমাদের এখান থেকে দেশে ও বিদেশে কুরিয়ার করে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০

এর মাঝেই সময় পেলে বই পড়তেন। বই পড়তে পড়তেই কবিতার জগতে প্রবেশ তার। ২০০১ সালে ‘আহ্বান’ নামে একটি কবিতা লেখার মধ্য দিয়েই হাতেখড়ি গুলজার হোসেন গরিবের। প্রথম কবিতা দেখে স্বজন ও বন্ধুদের বাহবা পেয়ে বেড়ে যায় তার উৎসাহ। একে একে লেখেন গভীর রাত’ ‘তোমাকে হত্যার পর’ ‘গরিবের বিদ্বেষ’ ‘প্রিয় সাবির হাকা’ ‘এখানে যা নেই’ করোনা নিয়ে ‘ভাইরাস’সহ ২৪০০ কবিতা।

১০টি প্রবন্ধও লিখেছেন তিনি, নিজের কণ্ঠে আবৃত্তিও করেন। লিখেছেন ২১০টি গানও। গুলজার হোসেন বলেন, পড়াশোনার প্রতি খুবই আগ্রহ ছিল কিন্তু অভাবের কারণে লেখাপড়া বেশি করতে পারিনি। কবিতার প্রতি আমার আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই। ২০০১ সাল থেকে কবিতা লেখা শুরু করি, এখনো লিখে যাচ্ছি। ২০০৫ সাল থেকে বালু শ্রমিকের কাজ শুরু করি। আগে ২৫০-৩০০ টাকা পেতাম, এখন ৫০০-৬০০ টাকা পাই।

নিজে স্কুলে যেতে পারিনি। তবে দুই সন্তানকে পড়াচ্ছি। মেয়ে মিতা নূর এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে। ছেলে একরামুল কবির নবম শ্রেণিতে পড়ছে। ঝিনাইদহের কবি ও গবেষক সুমন সিকদার বলেন, কম শিক্ষিত হলেও গুলজার প্রচুর পড়াশোনা করেন। তার কবিতা মানুষের হৃদয় স্পর্শ করে। এভাবে চর্চা করলে আরো ভালো করবেন তিনি।

ঝিনাইদহ পৌরসভার মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু বলেন, গরিব অত্যন্ত সংগ্রামী একজন মানুষ। তার কবিতায় বাঙালি ও শ্রমিক শ্রেণির বঞ্চনার কথা থাকে। শুধু তাই না সে নিজে শ্রমিক হলেও শ্রমিক শ্রেণির মানুষের উপকারে কাজ করে। পৌরসভা, জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সহযোগিতা নিয়ে বালি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণও করেন। আমরা তার সফলতা কামনা করি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *