আগামী নির্বাচনে ভারতের সমর্থন আদায়ে বিএনপির কৌশল

চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করে ৪৪ বছরে পা দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে বর্তমানে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে দলটি। দীর্ঘ ১৪ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে জিয়াউর রহমানের গড়া দলটি। বিশেষ করে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জনের পর থেকে বিএনপির রাজনীতি অনেকটা কোণঠাসা হয়ে পড়ে।

সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসাকে ভারতের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা হয়েছে বলে আসছেন বিএনপির নেতারা। ফলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা অনেকটা প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা করেই বক্তব্য দিতেন।

তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে অঘোষিতভাবে বিএনপি প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতার পথ থেকে সরে এসেছে। মূলত বিএনপির বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলের দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকেই ভারতবিরোধী মনোভাব অনেকটা কমেছে দলটির নেতাকর্মীদের ভেতর।

অপরদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক একাধিক গোপন সূত্র বলছে, দলীয় স্বার্থসিদ্ধির অনৈতিক প্রচেষ্টায় ভারতকে কাছে না পাওয়ায় এখন পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছেন তারেক রহমান।

ভারতের উত্তর-পূর্ব অঙ্গরাজ্যগুলোকে পুনরায় অশান্ত করা, কাশ্মীর ইস্যুতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি ও চীনের সঙ্গে নতুন করে সখ্য গড়ে তুলে দেশটিকে চাপে রাখতে একমত হয়েছে পাকিস্তান ও বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ সেপ্টেম্বর লন্ডনের পাকিস্তান দূতাবাসে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন তারেক ও দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র কর্মকর্তারা।

সূত্র বলছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যেতে ভারতের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হওয়ায় তারেক ক্ষুব্ধ হয়েই পাকিস্তানের দ্বারস্থ হয়েছেন। দেশটিকে বাগে আনতে কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব অঙ্গরাজ্যগুলোতে পুনরায় বিদ্রোহীদের আর্থিক অনুদান, অস্ত্র সরবরাহ ও সীমান্তে জাল টাকা বিস্তারে একযোগে কাজ করবে বিএনপি-আইএসআই।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতে ভারতকে চাপে রেখে সমর্থন আদায় করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিকল্প দেখছেন না তারেক। এছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘ বৈরিতার সুযোগ নিয়ে স্বার্থ হাসিল করতেই অনেক বুঝেশুনে আইএসআই’র সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা।

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/আরএইচ/এইচএন

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *