সবগুলো নামই একজনের- মিনু, সিমু, ফাতেমা, রুমানা, স্বামী কখনো ইমাম-কখনো জামিল।

মিনু, সিমু, ফাতেমা, রুমানা। শুনতে চার নারীর নাম মনে হলেও সবগুলো নামই একজনের। সবগুলো নামেই রয়েছে তার একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নাগরিক সনদপত্র। এমনকি রয়েছে একাধিক স্বামী, করেছেন একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরিও। বিয়ের নামে পুরুষদের ফাঁদে ফেলে অর্থ-সম্পদ লুট।

জাতীয় পরিচয়পত্র জালিয়াতি করে নানা রকমের প্রতারণা ও নিরীহ লোকদের হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে মিনু আক্তার ওরফে নাছমিন আক্তার সিমু ওরফে ফাতেমা খাতুন ওরফে ফাতেমা আক্তার রোমানা নামে এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। খাগড়াছড়ির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গাজীপুরে থাকছেন তিনি।

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে মামলাটি করেন প্রবাসী ইমাম হোসেন। মামলায় ওই নারী ছাড়াও মোস্তফা জামিল ও রাশেদ নামে আরো দুজনকে আসামি করা হয়। মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ১০ লাখ টাকা কাবিনে মিনু আক্তারকে বিয়ে করেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইমাম হোসেন।

বিয়ের পর ইমাম হোসেন জানতে পারেন সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী এলাকার রাশেদ নামে আরো এক যুবকের সঙ্গে চার বছর ধরে শারীরিক সম্পর্ক রয়েছে মিনুর। কিন্তু তবুও সবকিছু মেনে নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমান তিনি। এরই মধ্যে মিনু আক্তার নাম পাল্টে হয়ে যান নাছমিন আক্তার সিমু। ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিয়ে করেন গাজীপুরের মোস্তফা জামিলকে।

বিষয়টি ইমাম হোসেনের নজরে এলে মিনুর প্রতারণা সম্পর্কে খোঁজ নিতে থাকেন তিনি। পরে জানতে পারেন ২০০৮ সালে লুৎফুর রহমান নামে টাঙ্গাইলের আরো একজনকে বিয়ে করেছিলেন মিনু। ওই সংসারে একটি সন্তানও রয়েছে তার। মূলত অনেকের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করাই তার কাজ।

ভুক্তভোগী ইমাম হোসেনের আইনজীবী গোলাম মাওলা মুরাদ বলেন, মিনু আক্তারের নানাবিধ প্রতারণার প্রমাণ মিলেছে। তার চারটি ভিন্ন ভিন্ন নামের জাতীয় পরিচয়পত্র, তিনটি কাবিননামা, একাধিক বিয়ে ও বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার তথ্য রয়েছে। মূলত পুরুষদের বিয়ের ফাঁদে ফেলে প্রতারণাই তার কাজ। মিনুসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করতে বায়েজিদ বোস্তামী থানাকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *