মৌ’র ১১ বিয়ে, বিপুল টাকা হাতিয়েছেন সাবেক স্বামীদের থেকে

মা’দক মাম’লায় গ্রে”প্ত ারের পর কথিত মডেল মর’িয়ম আক্তার মৌ-এর সঙ্গে ভিআইপিদের সংশ্লি’ষ্টতা খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে তার অঢেল সম্পদের উৎস খুঁজে দেখছেন গোয়েন্দারা। এরই মধ্যে তার বাসা থেকে জব্দ করা হয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ।

ডিবির তদ’ন্ত-সংশ্লি’ষ্টরা জানিয়েছেন, মৌ ১১টি বিয়ে করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামী একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। ধনাঢ্যদের ফাঁ’দে ফেলে বিয়ে করা ছিল মৌ-এর পেশা। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর আরেকজনের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতেন। সাবেক স্বামীরা মৌ-এর অ’পকর্ম সম্পর্কে সবই জানতেন। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে অনেক সময় নিজেরাই তাকে তালাক দিতেন।

রবিবার (০১) আগস্ট রাতে পুলিশের হাতে গ্রে”প্ত ার হওয়া আরেক মডেল ফারিয়া মাহবুব পিয়াসার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৌ-কে গ্রে”প্ত ার করা হয়। মোহাম্ম’দপুরে পাঁচতলা আলিশান বাড়ি রয়েছে তার। নেক্সাস, পাজেরো ও টয়োটা ব্র্যান্ডের তিনটি দামি গাড়ি চালাতেন মৌ।

অথচ তার দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস নেই। মৌ মডেলিং পেশার আড়ালে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের ব্ল্যা’কমেইলিং করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন বলে অ’ভিযোগ পেয়েছেন তদ’ন্ত-সংশ্লি’ষ্টরা। মা’দক ও অনৈ’তিক ব্যবসায় তার সংশ্লি’ষ্টতার কিছু প্রমাণ ইতিমধ্যে গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাকে গ্রে”প্ত ারের পর অনেক ভুক্তভোগীই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

ডিবি পুলিশের কাছে তথ্য আছে, মৌ-এর নিয়ন্ত্রণে অর্ধশত লাস্যময়ী তরুণী রয়েছেন। এসব তরুণীকে দিয়ে তিনি অর্থশালীদের টার্গেট করতেন। কৌশলে তাদের বাসায় নিয়ে আসতেন। ম’দ খাইয়ে অচেতন করে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি কিংবা ভিডিও ধারণ করতেন। পরে ওই ব্যক্তি যদি কথামতো কাজ না করতেন, তাহলে ভয় দেখানোর পাশাপাশি ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হু’মকি দিতেন।

এভাবে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের সুন্দরী তরুণী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রীরা মৌ-এর প্রতারণা চক্রের সদস্য। তারা দিনের বেলা লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে রাতে সক্রিয় ‘হতেন। তার বাসায় গভীর রাত পর্যন্ত মা’দক সেবনের পাশাপাশি চলত অ’সামাজিক কার্যকলাপ। ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রা’ইমের এক কর্মক’র্তা জানান।

তিন দিনের রি’মান্ডের প্রথম দিন গতকাল মৌকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার এত সম্পদের উৎস কোথা থেকে, কী কারণে তার আগের সব সংসার ভেঙে গেছে এবং সব বিয়েতেই মোটা অ’ঙ্কের কাবিন ছিল কেন। বিয়ের ফাঁ’দ পেতে প্রতারণা করতেন কি না- এমন নানা বি’ষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কত দিন ধরে এবং এ পর্যন্ত কতজনকে ব্ল্যা’কমেইল করেছেন এমন সব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি মৌ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *