এবার রিমান্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর

ভুঁইফোড় একটি সংগঠনের পোস্টারকে ঘিরে বিতর্কে আসার পর র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন আলোচিত-সমালোচিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় করা হয় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা। সেই মামলায় তিনি তিন দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে বেশ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন হেলেনা।

তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, বিতর্কিত ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে প্রথমে সখ্য গড়ে তুলতেন। পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এরপর ভিকটিমদের কাছ থেকে টাকাসহ নানা সুবিধা আদায় করতেন।

শনিবার দুপুরে উত্তরা র‌্যাব সদর দফতরে সাংবাদিকদের র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, হেলেনার বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেইল করে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা আদায় করার তথ্য আমরা পেয়েছি। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে‌।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, হেলেনা সুনির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির জন্য থেমে থাকতেন না। প্রতিনিয়ত তার সঙ্গে বিভিন্ন লোকজনের পরিচয় ঘটেছে। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যাকে প্রয়োজন তাকে তিনি ঘায়েল করেন। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন এবং সেটা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছেন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য। আমাদের মামলার কারণ এটাই। তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

যা তাদের বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছেন। জনগণের মধ্যেও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। মঈন বলেন, আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি মনে করেন এ মামলাটির র‌্যাব তদন্ত করবে তাহলে যথাযথ প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে আমরা আবেদন করব। তবে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে হবে। তিনি বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীরের স্বামী ১৯৯০ সাল থেকে গার্মেন্টসে চাকরি করতেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে অন্যদের সঙ্গে পার্টনারশিপে ব্যবসা শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক তিনি।

আমরা জানতে পেরেছি, গত দুই বছরে বিভিন্ন মাধ্যম এবং টেলিভিশনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে, এজেন্সি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন পরিমাণ টাকা আদায় করতেন হেলেনা। এসব তার অফিস স্টাফদের ওপর চাপিয়েছেন। বাসায় এবং অফিস থেকে যে পরিমাণ ভাউচার পাওয়া গেছে তা এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জয়যাত্রা টেলিভিশনের আইডি কার্ড ব্যবহার করে অনেক প্রতিনিধিও এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি।

মঈন আরো বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর আমাদেরকে জানান, তার ১৫ থেকে ১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ফাউন্ডেশনের সঙ্গে তিনি জড়িত। বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজি কিংবা ব্ল্যাকমেইল করে আদায় করা টাকাগুলো তিনি ফাউন্ডেশনে কাজে লাগাতেন। সুনামগঞ্জে তিনি ত্রাণ বিতরণ করায় স্থানীয়রা তাকে পল্লীমাতা উপাধি দিয়েছেন। ফাউন্ডেশনের নামে প্রবাসীদের কাছ থেকে অনেক টাকা এনেছেন।

এগুলো কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে ফ্ল্যাট কিংবা গাড়ির সংখ্যা কতগুলো সে বিষয়ে প্রকৃত কোনো তথ্য আমাদের দিতে পারেননি হেলেনা। কখনো ছয়টি গাড়ি, কখনো আটটি গাড়ির কথা বলছেন। এসব বিষয়ে যারা তদন্ত করবেন তারা খতিয়ে দেখবেন।

উল্লেখ্য,২৯ জুলাই দিবাগত রাতে গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৫ নম্বর বাসা থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিদেশি মদ, অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, ক্যাসিনো সরঞ্জাম ও হরিণের চামড়া উদ্ধার করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *