এক মানবাধিকার নেত্রী, জ্বলন্ত মশার কয়েলের ছ্যাঁকায় দ্বগ্ধ শিশু গৃহকর্মী।

বান্দরবান সদর উপজেলায় এক মানবাধিকার নেত্রীর বিরুদ্ধে শিশু গৃহকর্মীকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে ছ্যাঁকাসহ নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত মঙ্গলবার সকালে অভিযুক্ত মানবাধিকার নেত্রী সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসা থেকে পালিয়ে যায় ভুক্তভোগী শিশুটি।

নয় বছর বয়সী ওই শিশুটির নাম জয়নাব আক্তার জোহরা, তার বাড়ি বান্দরবানের লামা উপজেলার লামার মুখ এর বরিশাল পাড়ায়। বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায় একজন ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করছে এবং সে তার ওপর নির্যাতনের বিভিন্ন বর্ণনা দিচ্ছে।

তাকে নির্যাতনের জন্য তার গৃহকর্তী মানবাধিকার কর্মী সারাহ সুদীপা ইউনুসের নাম বলতে থাকে। ২ মিনিট ৮ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে সে নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে পালিয়ে আসার বর্ণনা দেয় এবং তাকে জ্বলন্ত মশার কয়েল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে ছ্যাঁকা দিয়ে পুড়ে দেওয়ার নির্মম কাহিনী বর্ণনা করে।

সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আর একটি বিয়ে করলে সে পুরোপুরি এতিম হয়ে যায়। পরে তার এক প্রতিবেশী তাকে বান্দরবান সদরের মানবাধিকার কর্মী সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করার জন্য দেয়। ৮ মাস ধরে সে বাসায় কাজ করলেও গৃহকর্তীর নির্যাতন সইতে না পেরে পালিয়ে যায়।

বান্দরবানের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কামরুল হাসান বাচ্চু বলেন, শিশুটি পালিয়ে এলাকায় চলে এলে এক ব্যক্তি বিষয়টি আমাকে অবহিত করে। পরে শিশুকে ও অভিযুক্ত সারাহ সুদীপা ইউনুসের স্বামী মো. ফয়সালকে নিয়ে বৈঠক করি এবং বৈঠকে শিশু গৃহকর্মীটি নির্যাতনের বর্ণনা দেয়।

পরে সে আর সারাহ সুদীপা ইউনুসের বাসায় যেতে না চাইলে শিশুটিকে রওশন আরা নামে এক প্রতিবেশীর কাছে হস্তান্তর করি।
বৃহস্পতিবার রওশন আরা নামে ওই প্রতিবেশী বান্দরবান সদর থানায় ভিকটিমের পক্ষ হয়ে একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য পাঠায়।

বান্দরবান সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. সোহাগ রানা বলেন, এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বান্দরবান সদর থানায় সারাহ সুদীপা ইউনুস ও তার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত করে পরর্বতী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারাহ সুদীপা ইউনুস ও তার স্বামী ফয়সাল আহম্মেদ নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *