জেনে নিন-গৃহকর্মীর মৃত্যুতে অভিনেত্রী শাহনাজ খুশির আবেগঘন স্ট্যাটাস।

হালের জনপ্রিয় অ’ভিনেত্রী শাহনাজ খুশির বাসার কাজের সহযোগী কুলসুম। দীর্ঘ দিন তিনি খুশির বাসায় কাজ করেছেন। একটি ছোট অ’পারেশনের জন্য সম্প্রতি কুলসুম হাসপাতালে ভর্তি হন। অ’পারেশন শেষে আর পৃথিবীর আলো দেখেননি তিনি। না ফেরার দেশে চলে গেছেন সবাইকে ছেড়ে। নিজের বাসার গৃহকর্মীর মৃ’ত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন অ’ভিনেত্রী খুশি।

গতকাল বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া স্ট্যাটাসটি বিডি২৪লাইভের পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধ’রা হলো-আজকের এই করোনা দুর্যোগের ভ’য়াব’হতায়, বেশির ভাগ পরিবারে যা ঘটছে, তাতে করে, আমা’র এ পোস্টে কারো হয় তো বির’ক্তি আসতে পারে। কাজের মানুষকে নিয়ে কেন আবার পোস্ট? জীবন, আমাকে সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা শিখিয়েছে।

সেটা র’ক্তের সম্পর্কের অনেক ঊর্ধ্বে। যারা আমা’র র’ক্তের কেউ না হয়েও, আমা’র আ’ত্মা স্বজন হয়েছে। এই মেয়েটা আমা’র জীবনে নতুন এক স্বজন হয়ে ধ’রা দিয়েছিল ৯টা বছর। আমা’র দায়িত্ব/ক’ষ্ট/সকল অ’পারগতা সব ভাগ করে নিয়েছিল। আমা’র বাসায় যারা এসেছে/থেকেছে, সবাই তার মায়াবি আতিথেয়তা পেয়েছে!’

তিনি আরও বলেন, ‘আমা’র বড় ছেলেটার সাথে সেদিন খুব তর্ক লেগে গেল, আমি বড়ই বির’ক্ত হয়ে বললাম, দিব্য, তুমি এমন করতে থাকলে তো, আমর’া কেউই তোমা’র সাথে ভবি’ষ্যতে থাকবো না। সে অবলিলায় বললো, তোমর’া না থাকলে আর কি বলবো, তবে প্লিজ, আমাকে কুলসুম আন্টিকে ঠিক করে দিও। কুলসুম থাকলে আর কিচ্ছু লাগবে না!! এটা তার প্রতি আমা’দের প্রেম, অনুর’ক্ততা!

আমা’র বাসার সবার জন্ম তারিখ তার মুখস্ত ছিল। আমি পরম নির্ভরতায় তার কাছে আমা’র সংসার রেখে কাজে গেছি। বিদেশে গেছি একাধিক বার। কেবল সেই জানতো, আমা’র দিব্য-সৌম্যর পছন্দ, গতি প্রকৃতি। এই সংসারে/ সন্তানে আমা’র দরদ কতটুকু! ছোটবেলা ওরা খুব মা’রামা’রি করতো দুই ভাই। আমি চড় থাপ্পড়ে সেটার সমাধান করতাম। সে রান্নাঘরে বসে কাঁদতো। জিদ করে দুদিন কাজ কামাই দিত।

বললে বলতো, ওগো রে গায়ে হাত দিলে আমা’র সহ্য হয় না আফা!’খুশি লিখেন, ‘আমা’র এই ভরসার পরম আ’ত্মীয় আজ সকালে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেল! না! করোনায় না। সাধারণ অ্যাপেন্ডিসাইটিস অ’পারেশনে। অ’পারেশনের ২/৩ ঘণ্টার মধ্যে কোমায় চলে যায়! নিষে’ধ করেছিলাম এ সময় অ’পারেশনটা করতে! কত ছোট্ট ভুল সি’দ্ধান্ত, প্রতিদিন আমা’দের জীবনকে থামিয়ে দিচ্ছে চিরতরে।

নির্লোভ/মায়াবি এবং প্রখর আ’ত্মমর’্যাদা বোধ সম্পন্ন হাসিখুশি এ মেয়েটা কোনোদিন জানবে না, আমা’র ভেতরে কোন হাহাকার তুলে দিয়ে চলে গেল এ পৃথিবী ছেড়ে! সংসারে সব সত্যটা জানে, সংসারে, নিত্য আসা কাজের সাহায্যকারী। (বুয়া)। ৯ বছরের এ যাতায়াতে সে আমা’র পরিবারের অংশ হয়ে উঠেছিল।

আমা’র পরিবারের দিনমান থেমে গেল আজ! আমর’া তোমাকে অনেক ভালোবাসি কুলসুম। সারাজীবন তোমাকে মনে রাখবো। আমি তোমাকে সঠিক সম্মান দিয়েছি, তুমি দিয়েছো অ’পার মায়া, যা আমাকে আর কেউ দেয়নি। যেখানে গেলা, সেখানে শান্তিতে ঘু’মাও।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *