আগামী ২৩শে জুলাই থেকে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চলমান লকডাউন শিথিল করা হয়েছে। তবে ২৩শে জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ই আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত আবারও কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এ সংক্রা’ন্ত প্রজ্ঞাপন। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী মানতে হবে ২৩ নির্দেশনা। এদিকে, করোনাভাইরাসে আগের দুই দিনের চেয়ে মৃ’ত্যু কিছুটা কমেছে। উল্লেখিত সময়ে মা’রা গেছেন ২০৩ জন। এর আগে সোমবার ২২০ ও রবিবার সর্বোচ্চ ২৩০ জনের মৃ’ত্যুর তথ্য জানানো হয়।

এদিকে মৃ’ত্যু কমা’র পাশাপাশি গত এক দিনে শনাক্তের সংখ্যাও কমেছে। উল্লেখিত সময়ে শনাক্ত হয়েছেন ১২ হাজার ১৯৮ জন। গতকাল শনাক্ত ছিল ১৩ হাজার ৭৬৮ জন, যা এক দিনে সর্বোচ্চ।

১. সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

২. সড়ক, রেল ও নৌপথে গণপরিবহন (অভ্যন্তরীণ বিমানসহ) ও সব প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।

৩. শপিংমল/মা’র্কেটসহ সব দোকানপাট বন্ধ থাকবে।

৪. সব পর্যটন কেন্দ্র, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

৫. সব প্রকার শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকবে।

৬. জনসমাবেশ হয় এ ধরনের সামাজিক (বিবাহোত্তর অনুষ্ঠান, ওয়ালিমা), জন্ম’দিন, পিকনিক, পার্টি ই’ত্যাদি) রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

৭. বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আ’দালতসমূহের বি’ষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৮. ব্যাংকিং/বীমা/আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।

৯. সরকারি কর্মচারীরা নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করবেন এবং দাফতরিক কাজ ভার্চুয়ালি (ই-নথি, ই-টেন্ডারিং, ই-মেইল, এসএমএস, হোয়াটসঅ্যাপসহ অন্যান্য মাধ্যম) সম্পন্ন করবেন।

১০. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিষেবা, যেমন- কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশ’ক, কৃষি যন্ত্রপাতি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন/’বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আ’দায় সম্পর্কিত কার্যাব’লি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বা’লানি, ফা’য়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপ’ত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রা’ন্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ই’ত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপ’ত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অ’ত্যাব’শ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লি’ষ্ট অফিসসমূহের কর্মচারি ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সা’পেক্ষে যাতায়াত করতে পারবে।

১১. বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হিসাবরক্ষণ কর্মক’র্তার কার্যালয় খোলা রাখার বি’ষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

১২. জরুরি পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত ট্রাক/লরি/কাভার্ড ভ্যান/নৌযান/পণ্যবাহী রেল/ফেরি এ নিষে’ধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূ’ত থাকবে।

২৩. বন্দরসমূহ (বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল) এবং এ সংশ্লি’ষ্ট অফিসসমূহ এ নিষে’ধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূ’ত থাকবে।

১৪. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে ‘বিকেল ৩টা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-‘বিক্রয় করা যাব’ে। সংশ্লি’ষ্ট বাণিজ্য সংগঠন, বাজার ক’র্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসন বি’ষয়টি নিশ্চিত করবে।

১৫. অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া (ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃ’তদে’হ দা’ফন/সৎকার ই’ত্যাদি) কোনোভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাব’ে না। নির্দেশনা অমান্যকারীর বিরু’দ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

১৬. টিকা কার্ড প্রদর্শন সা’পেক্ষে টিকা গ্রহণের জন্য যাতায়াত করা যাব’ে।

১৭. খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁ সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খাবার ‘বিক্রয় (অনলাইন/টেকওয়ে) করতে পারবে।

১৮. আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু থাকবে এবং বিদেশগামী যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের টিকিট/প্রমাণক প্রদর্শন করে গাড়ি ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবেন।

১৯. স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে মসজিদে নামাজের বি’ষয়ে ধর্ম বি’ষয়ক মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২০. ‘আর্মি ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মাঠ পর্যায়ে কার্যকর টহল নিশ্চিত করার জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা মোতায়েন করবে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্থানীয় সেনা কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বি’ষয়টি নিশ্চিত করবেন।

২১. জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেলা পর্যায়ে সংশ্লি’ষ্ট কর্মক’র্তাদের নিয়ে সমন্বয় সভা করে সেনাবাহিনী, বিজিবি/কোস্টগার্ড, পুলিশ, র‌্যাব’ ও আনসার নিয়োগ ও টহলের অধিক্ষেত্র, প’দ্ধতি ও সময় নির্ধারণ করবেন। সেই সঙ্গে স্থানীয়ভাবে বিশেষ কোনো কার্যক্রমের প্রয়োজন হলে সে বি’ষয়ে পদ’ক্ষেপ নেবেন। সংশ্লি’ষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বি’ষয়ে মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করবে।

২২. জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের বি’ষয়টি নিশ্চিত করবে।

২৩. ‘সংক্রা’মক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’ এর আওতায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণের প্রয়োজনীয় ক্ষ’মতা প্রদান করবেন।।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *