সম্প্রতি দিল্লির তালেবান সংকট, আফগানিস্তানে পট পরিবর্তনে বড় ক্ষতির সামনে ভারত?

আফগানিস্তানের কান্দাহার শহরের ভারতীয় কনস্যুলেটে কর্মরত কূটনীতিকদের শনিবার যেভাবে রাতারাতি দিল্লিতে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে তাতে ইঙ্গিত স্পষ্ট যে ওই দেশটিতে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দিল্লি কতটা উদ্বিগ্ন। জানা গেছে, হেরাত, জালালাবাদ এবং মাজার-ই-শরীফের ভারতীয় কনস্যুলেটগুলো এখনো বন্ধ করা না হলেও, সেগুলোতে কাজকর্ম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

কয়েক ডজন কূটনীতিককে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনার এই সিদ্ধান্তের কয়েকদিন আগে গত সপ্তাহেই আফগানিস্তানে ভারতের সাহায্যে নতুন করে তৈরি একটি ড্যাম বা বাঁধে তালেবানের হামলায় কমপক্ষে ১০ নিরাপত্তা রক্ষী মারা যায়।

হেরাত প্রদেশে ওই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি আফগানিস্তানে ভারতের সবচেয়ে বড় প্রকল্প, যেটিতে তারা ৩০ কোটি মার্কিন ডলার খরচ করেছে। নতুন করে তৈরির পর সালমা ড্যাম নামে পরিচিত ওই বাঁধের নামকরণ করা হয় ভারত-আফগানিস্তান মৈত্রী ড্যাম, যেটির উদ্বোধন করতে ২০১৬ সালের জুনে আফগানিস্তান গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আফগান-ভারত সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত ওই বাঁধে হামলার ঘটনায় তালেবানের উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতের মধ্যে শঙ্কা-সন্দেহ হয়তো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিদেশি সেনা চলে গেলে আফগানিস্তানে আল-কায়েদার উত্থান নিয়ে শঙ্কা

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য পুরোপুরি প্রত্যাহারের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই ঝড়ের গতিতে একের পর এক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিচ্ছে তালেবান। দেশটির কমপক্ষে ৭০ শতাংশ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে বলে দাবি করছে তালেবান, যা খুব শক্ত গলায় প্রত্যাখ্যান করতে পারছে না আফগান সরকার। এমনকি কাবুলের ওপরও নিঃশ্বাস ফেলছে তারা।

জুনের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগগুলোর যে বিশ্লেষণ রিপোর্টটি সংবাদমাধ্যমে ফাঁস হয়, তাতে বলা হয়েছে যে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের ছয় মাসের মধ্যেই কাবুলের বর্তমান সরকারের পতন হতে পারে। আর সত্যিই যদি তা হয়, তা হলে ২০ বছর পর তালেবানই যে আবার ক্ষমতা নেবে তা নিয়ে তেমন সন্দেহ আর কেউ করছে না।

আফগানিস্তান নিয়ে ভারত কেন সবচেয়ে বেশি চিন্তায়? দিল্লির জওহারলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ড. সঞ্জয় ভরদোয়াজ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলছিলেন, অনেক দেশই আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন, কিন্তু অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে আফগানিস্তানে সবচেয়ে বেশি স্বার্থ এখন ভারতের। তালেবান আবার ক্ষমতা নিলে ভারতের ক্ষতি হবে সবচেয়ে বেশি।

ভারতের নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য আফগানিস্তানের গুরুত্ব অপরিসীম। ফলে ভারত এখন জটিল এক সংকটে পড়েছে। ২০ বছর আগে ২০০১ সালে আমেরিকার সামরিক অভিযানে ক্ষমতা থেকে তালেবান উৎখাত হওয়ার পর যে দেশটি আফগানিস্তানে প্রভাব-প্রতিপত্তি বাড়াতে সবচেয়ে তৎপর হয়েছিল, সেটি ভারত। হেরাতে আফগান-ভারত মৈত্রী ড্যাম।

আফগানিস্তানে প্রভাব বিস্তারে গত দুই দশকে চারশোরও বেশি সামাজিক-অর্থনৈতিক এবং বড় বড় কিছু অবকাঠামো প্রকল্পে ৩০০ কোটি ডলারেও বেশি বিনিয়োগ করেছে ভারত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ডজন ডজন প্রকল্প ছাড়াও, দিলারাম-জারাঞ্জ মহাসড়ক নামে ২১৮ কিমি দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক তৈরি করে দিয়েছে ভারত। কাবুলে নতুন আফগান পার্লামেন্ট ভবনটিও তৈরি করেছে তারা।

আফগানিস্তানকে ভারতের কেন দরকার? শুধু ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগের বিষয়টির জন্যই নয়, বরং ড. ভরদোয়াজের মতে আরো অনেক কারণে ভারতের জন্য আফগানিস্তানের গুরুত্ব রয়েছে। মধ্য এশিয়ার বাজারে ঢোকার জন্য ভারতের জন্য আফগানিস্তান খুবই জরুরি। আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে ইরান ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে দুটি পাইপলাইন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। তবে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এসবের চেয়েও বেশি।

ড. ভরদোয়াজ বলেন, কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সাথে এবং লাদাখ নিয়ে চীনের সাথে বিপজ্জনক দ্বন্দ্ব রয়েছে ভারতের। এখন আফগানিস্তান শত্রু রাষ্ট্রে পরিণত হলে ভারতের জন্য তা বড়রকম মাথাব্যথা তৈরি হবে। অতীতে আফগানিস্তান থেকে মুজাহিদীনরা এসে কাশ্মীরে তৎপর হয়েছে। তালেবান ক্ষমতায় এলে বা তাদের প্রভাব বাড়লে তার পুনরাবৃত্তি হয় কিনা।

সে ভয় ভারতের মধ্যে প্রবল। তবে ভারতের সবচেয়ে বড় চিন্তা পাকিস্তান।পাকিস্তান যদি আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি এবং নিরাপত্তা নীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়, তা হবে ভারতের জন্য দুঃস্বপ্ন। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শংকরের ছোটাছুটি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর পশ্চিম এশিয়া চষে বেড়াচ্ছেন মূলত এসব শঙ্কা থেকেই। গত মাসে তিনি দুবার দোহায় গেছেন। গত সপ্তাহে মস্কো যাওয়ার পথ তেহরানে নামেন তিনি।

মজার ব্যাপার হলো, তিনি যখন ঐসব রাজধানীতে গেছেন তখন সেখানে তালেবানের নেতারা ছিলেন। তালেবানের সঙ্গে কোনো মীমাংসা নয়- প্রকাশ্যে এই নীতি নিলেও ভারত সরকার হালে তালেবানের সঙ্গে তলে তলে যোগাযোগ করার জোর চেষ্টা করছে, এমন কানাঘুষো দিনকে দিন বাড়ছে। পাকিস্তানের সাংবাদিক সামি ইউসুফজাই, যার সঙ্গে তালেবানের নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২৯ জুন এক টুইট করেন, আফগান তালেবান সূত্র নিশ্চিত করেছে এস জয়শংকর এবং তালেবান নেতা মুল্লা বারাদার ও খায়রুল্লাহ শেখ দিলওয়ারের সাথে বৈঠক হয়েছে, যেখানে তালেবান নেতারা তাকে ভরসা দিয়েছেন যে ভারতের সাথে তাদের সম্পর্ক পাকিস্তানের ইচ্ছামত হবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য সঙ্গে সঙ্গে এক বিবৃতিতে বলেছে যে তালেবানের সাথে এ রকম কোনো বৈঠক হয়নি।

এসব খবর বানোয়াট। তবে ড. ভরদোয়াজ বলেন যে তালেবানের সঙ্গে বোঝাপড়ার উদ্যোগ নেয়া ছাড়া ভারতের সামনে এখন তেমন কোনো বিকল্প নেই। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক কথা-বার্তা, বক্তৃতা থেকে আমি যা বুঝতে পারছি তাহলো, ভারত অনুধাবন করছে তালেবানকে অবজ্ঞা বা অস্বীকার করা সম্ভব নয়।

তবে তালেবানের যা ইতিহাস-আদর্শ, তাতে তাদের সাথে কথা বলা হবে ভারতের জন্য বড় ধরণের বিড়ম্বনা। ভারত বিশ্বাস করে তালেবানের ক্ষমতাকালে ১৯৯৯ সালের ডিসেম্বরে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান অপহরণ করে কান্দাহারে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সাথে পাকিস্তানের সেনা গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-য়ের সাথে তালেবানও সম্পৃক্ত ছিল। এরপর ২০০৮ সালে কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে হামলা।

যাতে ৫৮ জন নিহত হয় – তার পেছনেও তালেবানের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশ হাক্কানি নেটওয়ার্কের হাত ছিল বলে ভারত নিশ্চিত। ২০১৪ সালের ২৩শে মে হেরাতে ভারতীয় কনস্যুলেটে হামলার পেছনেও হাক্কানি নেটওয়ার্কের হাত ছিলে ভারত মনে করে। এই যখন ইতিহাস তখন তালেবানের সাথে আপোষ-মীমাংসা নিয়ে ভারত কতটা ভরসা করতে পারে? আফগানিস্তানে তালেবান কি পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার?

লন্ডনে সোয়াস ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসির গবেষক এবং পাকিস্তান রাজনীতির বিশ্লেষক ড. আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসিকে বলেন, পাকিস্তানকে পাশ কাটিয়ে তালেবানের সাথে কোন বোঝাপড়া করা ভারতের জন্য অত্যন্ত দুরূহ কাজ হবে। ভারত তলে তলে বছর দুয়েক ধরেই তালেবানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। সেই সাথে পাকিস্তানও চেষ্টা করছে সেই সম্পর্ক যাতে না হয়।

ড. আয়েশা সিদ্দিকা মনে করেন, তালেবানের ওপর ভরসা করা ভারতের জন্য কঠিন কারণ, তার মতে, তালেবানের মধ্যে পাকিস্তানের প্রভাব অনেক গভীর। তিনি বলেন, পাকিস্তান এখনো তালেবানকে এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে দোহায় যখন মার্কিনিদের সঙ্গে তালেবানের আপোষ-মীমাংসা চলেছে, তখন কাতারে পাকিস্তান দূতাবাস থেকে তালেবানকে প্রতি মূহুর্তে গাইড করা হতো। কখন কী কথা বলতে হবে।

কোন দাবি তুলতে হবে, কোন দাবি প্রত্যাখ্যান করতে হবে – প্রতিটি পদক্ষেপে দোহায় পাকিস্তান দূতাবাস থেকে তালেবান নেতাদের কানে পরামর্শ পৌঁছে দেওয়া হতো। তাছাড়া, ড সিদ্দিকা বলেন, দোহাভিত্তিক যেসব তালেবান নেতার সাথে ভারত কথা বলছে বলে জানা যায়, আফগানিস্তানের ভেতরের পরিস্থিতির ওপর তাদের কতটুকু নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

দোহায় যারা আছেন তারা তালেবানের বুদ্ধিজীবী অংশ, তারা কিছুটা উদারপন্থী। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। আমেরিকা-পরবর্তী আফগানিস্তানে পাকিস্তানের লক্ষ্য ঠিক কী? এক্ষেত্রে পাকিস্তান কী চায়, বিশেষ করে ভারতের বিষয়ে তাদের কৌশল ঠিক কী?- বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্ন উঠছে। ড. সিদ্দিকার মতে, পাকিস্তানের মূল কৌশলগত লক্ষ্যই হচ্ছে আফগানিস্তানে ভারতকে যতটা সম্ভব দুর্বল করে ফেলা, অপ্রাসঙ্গিক করে ফেলা।

ভবিষ্যতে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তা বিষয়ক নীতি নির্ধারণে ভারত যেন কোন ভূমিকা না রাখতে পারে, সেটাই পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য হাসিলে তালেবানই হচ্ছে পাকিস্তানের প্রধান হাতিয়ার। আফগানিস্তানে ভারতের উপস্থিতি নিয়ে পাকিস্তান এতটা উদ্বিগ্ন কেন? ড. সিদ্দিকা বলেন, পাকিস্তান সবসময় বিশ্বাস করে কাবুলে আফগান সরকারের সাথে যোগসাজশে ভারত পাকিস্তানে জাতিগত অসন্তোষ এবং বিদ্রোহে মদত দিচ্ছে।

পাকিস্তান মনে করে ভারত পশতু জাতীয়তাবাদকে উস্কে দিচ্ছে। বালুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সাহায্য করছে। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে নানা সময়ে খোলাখুলি এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে। তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)- যারা পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত, তারা আফগানিস্তানের ভেতরে তারা প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, অর্থ এবং আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে বলে পাকিস্তান বহুবার অভিযোগ করেছে।

গত মাসের মাঝামাঝি যেদিন দোহায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফগান বিষয়ক বিশেষ মার্কিন দূত যালমে খালিলজাদের সাথে কথা বলছেন, সেদিনই আফগান এক টিভিতে (টোলো টিভি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশী খোলাখুলি বলেন, আফগানিস্তানে ভারতের অস্বাভাবিক’ উপস্থিতি সন্দেহজনক। তিনি বলেন, আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রাখতেই পারে। ব্যবসা করতে পারে।

ভারত সেখানে গিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে পারে, তাতে পাকিস্তানের কোনও সমস্যা নেই। তবে যে দেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত নেই, সেখানে তাদের এত বড় উপস্থিতি স্বাভাবিক নয়। পাকিস্তানের মন্ত্রী বলেন, তারা (ভারত) যদি আফগানিস্তানের মাটি থেকে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করে, সন্ত্রাসে মদত দেয়, তা নিয়ে আমাদের চিন্তার যথার্থ কারণ রয়েছে।

ভারতের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের ব্যাপারে পাকিস্তানের হাতে প্রমাণ কতটা রয়েছে? – এই প্রশ্নে ড. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে পাকিস্তান মাঝে মধ্যে এসব প্রমাণ হাজির করে। তবে এটা প্রমাণের কোন বিষয় নয়। রাষ্ট্র কখনো নিরাপরাধ নয়। পাকিস্তান নিজেও ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একই কাজ করছে। ভারত করবে না তার কী যুক্তি?

ঘেরাও হওয়ার ভয় ওয়াশিংটনে গবেষণা সংস্থা ইন্সটিটিউট অব পিস-এর গত বছরের এক গবেষণা রিপোর্টে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের নিরাপত্তা বিশ্লেষক যাকারি কনস্টানটিনো প্রায় একই কথা বলেছেন। তার মতে, বহুদিন ধরেই ইসলামাবাদের ভয় আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে পাকিস্তানকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা করছে ভারত।

মার্কিন এই বিশ্লেষক বলেন, ১৯৭০ দশক থেকে পাকিস্তানের মধ্যে এই উদ্বেগ কাজ করছে এবং সে কারণে ইসলামাবাদ সবসময় চেয়েছে কাবুলে এমন সরকার থাকুক যারা পাকিস্তানপন্থী। কনস্টানটিনো, যিনি একসময় আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন, লিখেছেন যে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সেনা প্রত্যাহার করে নেয়ার পর ভারতের ব্যাপারে পাকিস্তানের অবস্থান এবার আরও শক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কাশ্মীর নিয়ে ভারত সরকার যা করেছে তা নিয়ে পাকিস্তান খুবই ক্ষুব্ধ এবং সেই ঝাল তারা আফগানিস্তানে ঝাড়তে পারে।
এ কারণে, তালেবান ছাড়াও ভারত সরকার আফগানিস্তানের অন্যান্য প্রতিবেশীদের সাথেও যোগাযোগ শুরু করেছে যারা সবাই আগামী দিনগুলোর আফগান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কম-বেশি চিন্তিত।

ইরানের সঙ্গে কথা বলছে ভারত, রাশিয়ার সঙ্গে কথা বলছে। তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ করছে বলে জানা গেছে। ইউরোপের ক্ষমতাধর দেশগুলোর সঙ্গেও কথা বলছে। তবে আফগানিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কতদিন এবং কতটা আগ্রহী থাকবে, অনেক কিছুই নির্ভর করছে তার ওপর।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *