নতুন কৌশলে তারেক জিয়া

বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার আবেদন নাকচ হওয়ার পর তারেক জিয়া ক্ষুব্ধ এবং বিরক্ত। বিশেষ করে দলের নেতাকর্মীদের উপর তিনি অসন্তুষ্ট। বেগম খালেদা জিয়ার এই আবেদন নাকচ হওয়ার পর বসে নেই তারেক জিয়া। তারেক জিয়া নতুন পরিকল্পনা আঁটছেন বলে বিএনপি এবং বিভিন্ন সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- আমাদের এখানে নারী ও পুরুষের সকল #যৌন_রোগ সহ জটিল ও কঠিন রোগের সু চিকিৎসা করা হয়।
বিঃ দ্রঃ আমাদের এখান থেকে দেশে ও বিদেশে কুরিয়ার করে ঔষধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০

আর নতুন কৌশলের মূল লক্ষ্য হবে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করা, সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করা, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা যেন সরকার শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেয়। আর এই কৌশলের মোট পাঁচটি দিক রয়েছে বলে একাধিক সূত্র বলছে।

প্রথমত, আন্তর্জাতিক চাপ: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে জাতিসংঘে বিএনপি সমর্থক সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার এই ইস্যুটিকে মানবিক ইস্যু করে বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার অনুমতি যেন দেয়া হয় এ নিয়ে একটি প্রচারণার উদ্যোগ নিয়েছে তারেক জিয়া। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সহ পশ্চিমা দেশগুলো সরকারকে যেন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার বিষয়টিকে মানবিকভাবে দেখে সে জন্য আবেদন করবে, এটি সরকারের জন্য একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ হবে বলে মনে করছেন তারেক জিয়া।

দ্বিতীয়ত, চিকিৎসকদের মতামত: বিভিন্ন চিকিৎসকরা বিশেষ করে যে হাসপাতালে বেগম খালেদা জিয়া আছেন এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা সবাই মিলে বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা যে দেশে সম্ভব নয়, তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য তাকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া দরকার এবং সেটি বিদেশে হলে ভালো হয় এরকম একটি মতামত দিবে। এই মতামত দিয়ে একটি জনমত তৈরি করার চেষ্টা করছেন তারেক জিয়া। এখন পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাই শুধুমাত্র এরকম মতামত দিয়েছেন। এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিদেশ যাওয়ার পক্ষে কোনো মতামত দেননি। সেই মতামতটি নেয়ার জন্য চেষ্টা করছে তারেক জিয়া।

তৃতীয়ত, বাংলাদেশে একটি রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা: যেকোনো সরকার যখন দেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়, অশান্তি তৈরি হয় তখন বিরোধী দলের সঙ্গে একটু নমনীয় হন এবং বিরোধী দলের দাবিদাওয়াগুলো মানার চেষ্টা করে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্লেষণ করলেই দেখা যায় যে, অতীতে আন্দোলনের মাধ্যমে দাবিদাওয়া আদায় করার কৌশল নেয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার ব্যাপারেও তারেক জিয়া মনে করছেন যে এরকম একটি কৌশল যদি অবলম্বন করা যায় যে আন্দোলনের চাপ সৃষ্টি করা তাহলে হয়তো শেষ পর্যন্ত সরকার নমনীয় হবে এবং বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বিএনপির এরকম আন্দোলনের শক্তি শেষ পর্যন্ত আছে কিনা এটি হলো দেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

চতুর্থত, জনমত তৈরি: তারেক জিয়া যেদিন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে সেদিনই তিনি নেতাকর্মীদের বলেছেন এটি নিয়ে জনমত তৈরি করা। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে যে বিদেশে প্রেরণ করা উচিত এরকম একটি মনোভাব জাগ্রত করা। জনমত যদি তৈরি হয়, তাহলে সরকার একটা চাপের মধ্যে পড়বে।

সর্বশেষ, প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে দেন-দরবার: সরকারের ভেতর বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সঙ্গেও একটি দেন-দরবার করার চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছেন তারেক জিয়া যেন সেই প্রভাবশালী মহলটি সরকারকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্ররোচিত করে।

আর এই কৌশলগুলো যদি শেষপর্যন্ত সফল না হয় তাহলে তারেকের মূল কৌশল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সরকারকে ব্যতিব্যস্ত করে এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যেন পণ্য বিনিময়ের মত খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেয়া যায়। তবে অন্যান্য ষড়যন্ত্রের পরিকল্পনার মত এই পরিকল্পনা কতটুকু বাস্তবায়িত হবে সেটাই দেখার বিষয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *