Categories
Uncategorized

শেখ হাসিনাকে ফোন করবেন খালেদা?

বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ ৬ মাস বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদন দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এ তথ্য জানান। তবে খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন না। আগের যে শর্ত দেওয়া হয়েছিলো সেভাবেই এই মেয়াদ বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

তাই খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা ঝুলে রয়েছে। এ নিয়ে নতুন করে চেষ্টা তদবির শুরু করেছে খালেদা জিয়ার পরিবার। আইন মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, এটি নির্বাহী আদেশের জামিন। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যেহেতু সরকারের নির্বাহী বিভাগের প্রধান, তাঁর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে বেগম খালেদা জিয়া বিদেশ যেতে পারবেন কিনা।

উল্লেখ্য যে, বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অভিপ্রায় জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আবেদন করেছেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামিম ইস্কান্দার। এই আবেদনটি এখন আইন মন্ত্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের একটি সুত্র বলছে যে , শুধুমাত্র জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি নয়, তার বিদেশ যাওয়ার বিষয়টিও যেন মানবিক দৃষ্টিতে দেখা হয় সেজন্য বেগম জিয়ার পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। এর আগেও প্রথমবার গত ২৫ মার্চ যখন খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে ৬ মাসের জন্য জামিন দেয়া হয়েছিল, সেই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামিম ইস্কান্দার এবং তার বোন সেলিনা ইসলাম। এবারও জামিন বৃদ্ধির সঙ্গে বিদেশ যাওয়ার বিষয়েও তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টাও করছেন বলে জানা গেছে।

তবে এখন করোনা পরিস্থিতির কারণে গনভবনে দর্শনার্থীদের সাক্ষাৎ করবার জন্য সময় দেওয়া হচ্ছে না, এই কারনেই শেষ পর্যন্ত শামিম ইস্কান্দার এবং সেলিনা ইসলাম সাক্ষাৎ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। আর এইরকম সাক্ষাৎ যদি না পায় তাহলে বেগম খালেদা জিয়ার পরিবার অন্য একটি কৌশল নিয়ে আলাপ আলোচনা করছে বলে জানা গেছে, সেটি হল বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুকম্পা ভিক্ষা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

বেগম জিয়ার পরিবারের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলছেন যে, এটি নিয়ে তাদের পারিবারিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোন করলে কেমন হয়? প্রধানমন্ত্রীকে টেলিফোনে করে যদি বেগম জিয়া আরো ৬ মাসের জামিন দেওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার শারীরিক অবস্থার কথা বর্ণনা করে যদি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিদেশ যেতে দিতে অনুরোধ করেন তাহলে বিষয়টি ভিন্ন মাত্রা পাবে বলে জানা গেছে।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন যে, এ ধরনের টেলিফোনে বহুমাত্রিক তাৎপর্য রয়েছে এবং এ ধরনের টেলিফোনে করার আগে বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। কারণ এই ধরনের টেলিফোনের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পরাজয় ঘটতে পারে। তবে কোন কোন নেতা মনে করছেন যে, এই ধরনের টেলিফোনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে করেছিলেন এবং গনভবনে আলাপ আলোচনার জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু খালেদা জিয়া সেই আলোচনায় অংশগ্রহনে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এবং অনেক তিক্ত কথাবার্তা বলেছিলেন। এই কথোপকথন যখন জনগন দেখতে ও শুনতে পায় তখন খালেদা জিয়ার উপর একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরী হয়েছিলো জনগনের। বিএনপির জন্য ওই বিষয়টি ছিল বিব্রতকর। এছাড়াও খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো-র মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুধুমাত্র মাতৃত্বের সমবেদনা জানাতে সমস্ত প্রোটোকল ভেঙে বেগম খালেদা জিয়ার বাসার গেট পর্যন্ত গিয়েছিলেন।

কিন্তু একজন প্রধানমন্ত্রীকে গেট থেকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এই বিষয়টি পুরো দেশের মধ্যে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল এবং এটি খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে বড় ধরনের পরাজয়। এটি একটি অমানবিক কর্মকাণ্ড বলে সাধারনণ জনগন বিবেচনা করেছে।

এই প্রেক্ষিতে অতীতের যে ভুলগুলো সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন কিনা এবং শেষ পর্যন্ত জামিনের জন্য প্রধানন্ত্রীর অনুকম্পা ভিক্ষা করবেন কিনা সেটিই দেখার বিষয়।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন যে, খালেদা জিয়াকে জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পা নিতেই হবে। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর দয়ার উপর নির্ভর করবে।

উল্লেখ্য যে ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর অনুকম্পায় গত ২৫ মার্চ ৬ মাসের জন্য জামিন দেয়া হয়েছিল এবং এই জামিনের মেয়াদ আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ ৩ সেপ্টেম্বর তার আরো ৬ মাসের জামিন নিশ্চিত হওয়া গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *