Categories
Uncategorized

‘কম বা বেশি, প্রত্যেক রা’তেই আমাকে ধ’র্ষ’ণ করা শুরু হলো’

রুবি মেরির জন্ম হয়েছিল ব্রিটেনের সাউথ ওয়েলসে, যেখানে তার চমৎকার শৈশব কেটেছে। কিন্তু সবকিছুই বদলে গেলো যখন সে সাবা’লিকা হলো।

যখন তার বয়স ১৫ বছর, তখন ১৯৯৮ সালের একদিন ছুটি কাটানোর কথা বলে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসলেন তার বাবা-মা।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

‘মাত্র ছয় সপ্তাহ আমাদের বাংলাদেশে থাকার কথা ছিল, কিন্তু সেটা হয়ে গেলো দুইমাস। এরপরে তিনমাস, তারপরে ছয়মাস। আমরা সবাই বাড়ি আসার জন্য অ’স্থির হয়ে উঠলাম।’ বিবিসি বাংলা অনলাইনকে বলছেন মেরি।

‘আমি বাবাকে জিজ্ঞেস করলাম, আমি বাড়ি যেতে চাই, স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে চাই। তিনি বলতেন, আমরা অনেক টাকা খরচ করে এখানে এসেছি…এইসব। কিন্তু সেটি ছিল অজু’হাত, কারণ তখন তিনি আসলে আমার বিয়ের পরিকল্পনা করছিলেন।’

রুবি মেরি, বয়স যখন পাঁচ বছর।
২০১৪ সাল থেকে ‘ফোর্সড ম্যারেজ’ বা জো’র করে বিয়ে দেয়ার বিষয়টি ব্রিটেনে ‘অপ’রাধ’ হিসাবে তালিকাভু’ক্ত করা হয়েছে। কিন্তু এরপরে ওয়েলসে এ ধরণের মাত্র একটি অভি’যোগ পাওয়া গেছে আর পুরো যুক্তরাজ্য জুড়ে চারটি ঘটনায় শা’স্তি হয়েছে। যদিও যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের হিসাবে, প্রতি বছর ওয়েলসে অন্তত ১০০টি জো’রপূ’র্বক বিয়ের ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে ক্যাম্পেইনাররা বলছেন, এই আইনে বাবা-মা কারা’গারে যেতে পারে, এ রকম সম্ভাবনা থাকায় হয়তো অনেক ভু’ক্তভো’গী বা ঘটনার শি’কার মেয়ে সামনে এগিয়ে আসতে চান না।

যেমন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূ’ত ৩৫ বছরের রুবি মেরি বলছেন, ‘এটা কঠিন, কারণ সবাই তার পরিবারকে ভালোবাসে…কিন্তু শেষ পর্যন্ত যেকোনো নির্যা’তন আসলে নির্যা’তনই।’

জো’রপূর্বক বিয়ের শি’কার হওয়ার সেই পরিস্থিতি নিয়ে রুবি মেরি বর্ণনা করছিলেন যে, প্রায় প্রতিদিনই তিনি ধ’র্ষণের শি’কার হতেন, যাতে তার নতুন স্বা’মী দ্রুত একটি বাচ্চার পিতা হতে পারেন এবং যুক্তরাজ্যে থাকার সুযোগ পান।

এখনো সেই দিনের কথা মনে আছে রুবি মেরির, যেদিন প্রথম তিনি নিজের বিয়ের কথা জানতে পারেন।

‘একদিন যখন আমরা পরিবারের সঙ্গে বসে রা’তের খাবার খাচ্ছিলাম, তিনি (বাবা) বাইরে থেকে এসে খাবার টেবিলে বসে খেতে শুরু করলেন। এখনো আমার সেই দিনের কথা মনে আছে, যেন সেটা গতকালের ঘটনা।’

তার বাবা বলেন, ‘এটা কি চমৎকার হবে না, যদি আমরা রুবির বিয়ে দিয়ে দেই?’

‘আমি খুবই বি’ব্রত হয়ে গিয়েছিলাম। আমার বয়স তখন খুবই কম, আমার খাবারের প্লেটটি মেঝেতে ছুঁ’ড়ে ফেললাম, চিৎ’কার করে কাঁ’দতে কাঁ’দতে নিজের রুমে ছুটে গেলাম। আমি আসলে বুঝতে পারছিলাম না, এই খবর আমি কীভাবে নেব- কীভাবে এর সঙ্গে নিজেকে মে’লাবো?’ বলছেন রুবি মেরি।

আমি এরপর যেন একটা দরাদরির পণ্যে পরিণত হলাম। বললেন রুবি মেরি।
‘আমি এরপর যেন একটা দরাদরির পণ্যে পরিণত হলাম। একজন করে আমার চাচারা এসে আমাকে দেখে যেতে লাগলো আর তারা যেন আমার দর করতে লাগলো। এটা ছিল ভ’য়াব’হ একটা ব্যাপার। একজন ক্রী’তদা’সীর মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল আমার সাথে।’

‘আমি ছিলাম একটা অপরিচিত দেশে, সেখানে কার কাছে যেতে হবে, তা জানতাম না।’

দ্বিগুণ বয়সের একজন ব্যক্তির সঙ্গে জো’র করে মেরির বিয়ে দেয়া হলো। বিয়ের দিন অনেক মানুষ তাকে দেখতে এসেছিল।

‘আমাকে পুতুলের মত সাজানো হল। সবাই উঁকি মেরে হাসিমুখে নতুন বউ দেখতে এল।’

‘শুধুমাত্র বসে বসে আমি ভাবছিলাম, আমি কি একটি বস্তু? তখন যেন যা করতে বলা হচ্ছে, তাই করছি। আমার মাথায় তখন শুধু ছিল ব্রিটেনে ফিরে আসার চিন্তা। ব্রিটেনে আসার জন্য যা কিছু করা দরকার, তাই করা।’

বিয়ের পরেই তার নতুন স্বামী একটি সন্তানের জন্য অ’স্থির হয়ে উঠলেন।

‘কম বা বেশি, প্রায় প্রত্যেক রা’তেই আমাকে ধ’র্ষণ করা শুরু হলো, আমি যাতে তাড়াতাড়ি গর্ভ’বতী হতে পারি, যাতে তার (স্বামী) ব্রিটেনে আসার একটি পথ তৈরি হয়। এটাই ছিল তাদের পরিকল্পনা।’

রুবি মেরি গর্ভ’বতী হন এবং বাচ্চা জন্ম দেয়ার জন্য ওয়েলসে ফিরে আসেন। শিশুটির জন্মের পরেই তিনি বাড়ি থেকে পা’লিয়ে যান।

‘এটা তাদের জন্য ল’জ্জাজ’নক বলে আমার পরিবারের মনে হয়েছে। এরপর অনেক দিনের জন্য আমার পরিবার আমাকে অস্বী’কার করে গেছে।’

এখন জো’রপূর্বক বিয়ের বিরু’দ্ধে মানুষজনকে সচেতন করার জন্য একজন দূত হিসাবে কাজ করছেন রুবি মেরি।

কি বলছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর
এসব ঘটনা ঠে’কাতে এখন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর ভাবছে যে, এমন একটি বি’ধান জারি করা হবে, যাতে কিশো’রীদের সঙ্গে যারা কাজ করেন, যেমন শিক্ষক বা সমাজকর্মী, তারা এ ধরণের যেকোনো সন্দে’হজ’নক ঘটনা নজরে পড়লে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা জানি, জো’রপূর্বক বিয়ে দেয়ার বিষয়টি একটি লুকা’নো অপ’রাধ। সুতরাং ভু’ক্তভো’গীদের সাহায্যের সামনে এগিয়ে আসার মতো আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।’

‘বা’ধ্যতা’মূলক তথ্য দেয়ার একটি বি’ধান চালু করলে তা ভু’ক্তভো’গীদের অধিকার রক্ষায় আরো বেশি সহায়ক এবং দা’য়ীদের বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করবে কিনা, এ বিষয়ে আমরা সবার মতামত জানতে চাইছি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *