Categories
Uncategorized

মুক্তিযু’দ্ধে জয়ের খবর তিনিই প্রথম শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে

তখন তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বার্তা বিভাগের প্রধান | ১৯৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযু’দ্ধে জয়ের খবর তিনিই প্রথম শুনিয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষকে। তিনি কামাল লোহানী | করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৮৭ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি | ভাষা আন্দো’লন থেকে মুক্তিযু’দ্ধ – সর্বক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন প্রথম সারির যো’দ্ধা |

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

ভাষা আন্দো’লনের সময় জিন্নাহ্ পার্কে প্রতিবাদ বিক্ষো’ভের সময় তিনি প্রথম গ্রে’প্তার হন। পরের বছর যুক্তফ্রন্টের পক্ষে কাজ করায় সময়েও গ্রেফ’তার হন তিনি। এক বছর পর জেল থেকে ছাড়া পান | ১৯৫৮ সালে সামরিক আইন জারির পরে আত্মগো’পন করে ছিলেন বহুকাল | ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনে পাকিস্তান সরকারের নিষে’ধাজ্ঞা জারি করলে তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিবাদের মুখ |

জীবিত অবস্থায় তিনি মরণোত্তর দেহদান করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শেষ ইচ্ছাটি পূরণ হল না কারণ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তির দেহদান করা সম্ভব নয় | করোনার আবহেই বাঙালি হারিয়েছে অনেক কৃতি সন্তানকে ৷ ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার চুনী গোস্বামী,সাহিত্যিক দেবেশ রায়,ওপার বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের পর না ফেরার দেশের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিলেন কামাল লোহানী ৷

ভাষাসৈ’নিক, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক আন্দো’লনের বড় মাপের ব্যক্তিত্ব, অনেক বিশেষন প্রয়োগ করেও মানুষটার সব পরিচয় বোধহয় ভাষায় ব্যাখ্যা সম্ভব নয় ! বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে সেই দেশের প্রতিটি সাংস্কৃতিক আন্দো’লনে বারবার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন ৷ সংস্কৃতিকে হাতি’য়ার করে লড়ে’ছেন পাকিস্তানের যেকোন আগ্রা’সনের বিরু’দ্ধে ৷ দায়িত্ব পালন করেছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে ৷

স্বাধীনতার পরেও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দা’লাল নির্মূল কমিটির মাধ্যমে প্রগতিশীল আন্দো’লনে জড়িয়ে ছিলেন তিনি | সংগ্রামী মানুষটি হেরে গেলেন কোভিড-১৯ এর কাছে ৷ তাঁর প্রয়ানে কেবল ওপার বাংলা নয়,বাঙালি জাতির কাছে অপূরণীয় ক্ষতি ৷

‘আমরা হারবো না’, ‘মুক্তিসংগ্রামে স্বাধীন বাংলা বেতার’, ‘রাজনী’তি মুক্তিযু’দ্ধ স্বাধীন বাংলা বেতার’, ‘মুক্তিযু’দ্ধ আমার অহংকার’ প্রভৃতি তার উল্লেখযোগ্য সাহিত্যসৃষ্টি । কলকাতার সঙ্গে ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক | ১৯৭১ সালের আগে থিয়েটার রোডে এখনকার অরবিন্দ ভবনে প্রবাসী সরকারের দফতরেই একটি ঘরে থাকতেন তিনি | ছায়ানটের সম্পাদক হন ১৯৬২ সালে | মানুষটির জন্য রইল আমাদের হৃদয়ের অকৃত্রিম শ্রদ্ধার্ঘ্য |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *