Categories
Uncategorized

তাহলে সত্যি কি মাছ খেলে করোনার ঝুকি বাড়ে নাকি কমে? জেনে নিন আসল সত্যি

নভেল করোনাভাইরাস (এনসিওভি) নিয়ে এই উদ্বেগের বাজারে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপের মতো মাধ্যমে সামুদ্রিক মাছের মধ্যে সংক্রমণের আশঙ্কা তুলে ধরা হচ্ছে গত কয়েক দিন ধরে। তাতে সংক্রমণ ঠেকাতে মাছ-মাংস খেতে নিষেধ পর্যন্ত করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, চিনের উহানে সি-ফুডের বাজার থেকেই যেহেতু এনসিওভি ছড়িয়েছে, তাই বঙ্গবাসীর সামুদ্রিক মাছ খাওয়াও ঝুঁকিমুক্ত নয়।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের নামে হরেক সেই সব মনগড়া গাইডলাইনের পোস্ট দেদার ঘুরেও বেড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফলে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-আতঙ্ক যেমন বাড়ছে, তেমনই ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি। বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই সব পোস্টের দাবিকে অবৈজ্ঞানিক আখ্যা দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন। তাঁদের সাফ বক্তব্য, সি-ফুডের বাজার থেকে উহানে সংক্রমণ ছড়াক বা না-ছড়াক, সামুদ্রিক খাবারই যে এই সংক্রমণের উৎস, তার ন্যূনতম কোনও প্রমাণও মেলেনি। ফলে চিংড়ি, ইলিশ, পমফ্রেট, কাঁকড়া খাওয়া যেতে পারে নির্দ্বিধায়। তবে সে সব ধোয়া, ছাড়ানো ও রান্নার সময়ে সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা জরুরি।

বরাবরই মাছে-ভাতে থাকতে ভালোবাসে বাঙালি। পুকুর হোক বা ভেড়ি, নদী হোক বা খাঁড়ি, খাল-বিল হোক বা সমুদ্র- মিষ্টি ও নোনা জলের কমবেশি সব ধরনের মাছেরই ভক্ত বঙ্গবাসী। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোরা ভুয়ো খবরের জেরে ইলিশ থেকে গলদা চিংড়ি, ভেটকি থেকে টুনা, পমফ্রেট থেকে ম্যাকারেল, সার্ডিন থেকে কাঁকড়ার বিক্রি নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরাও।

সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্রের কথায়, ‘অহেতুক লোকের মনে ভয় ধরানো হচ্ছে। এখনও আমাদের ব্যবসায় কোনও প্রভাব পড়েনি বটে। কিন্তু পড়তে কতক্ষণ!’ তিনি জানাচ্ছেন, অতীত অভিজ্ঞতা বলে, মানুষের মধ্যে একবার বিভ্রান্তি থেকে আতঙ্ক ছড়ালে, সামুদ্রিক মৎস্যপ্রীতিতে ভাটা পড়বে ঝড়ের গতিতে। তাই এখনই প্রমাদ গুনছেন তাঁরা।

সোশ্যাল মিডিয়ার ভুয়ো পোস্টে বিরক্ত বিশেষজ্ঞরাও। রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি শিক্ষক সিদ্ধার্থ জোয়ারদার বলেন, ‘উহানে সি-ফুড বাজার থেকে খাবার খেয়ে এনসিওভি ছড়িয়েছে, এমন কোনও প্রমাণ নেই। বিষয়টি নেহাতই মুখে মুখে ছড়িয়েছে। সেখানে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন খাবারের মধ্যে ভাম, বাদুড় ও বুনো কুকুর সন্দেহের তালিকায় শীর্ষে ছিল।

তাদের সঙ্গে প্রথম আট জন আক্রান্তের জিন-সজ্জা মিলিয়ে দেখা গিয়েছে, এই ভাইরাসের উৎস সম্ভবত বাদুড়ই। এবং তার মাংস খেয়ে নয়, সেটি ঘাঁটাঘাঁটি করার পর সেই হাত সম্ভবত নাকে-মুখে ঠেকিয়েই বিপদ ডেকে এনেছিলেন একেবারে প্রথম দফার আক্রান্তরা।’

ভেটেরিনারি ভাইরোলজির বিশেষজ্ঞ সিদ্ধার্থের আরও ব্যাখ্যা, একবার যখন প্রাণি থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়ায় এবং পরে তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ানো শুরু হয়, তখন আর প্রাণি থেকে ফের মানুষে সংক্রমণটি ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে না। তাঁর কথায়, ‘চার ধরনের এনসিওভি-র মধ্য আলফা ও বেটা প্রজাতির ভাইরাসই মানুষকে সংক্রমিত করে। একবার মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ শুরু হয়ে গেলে মানবদেহের সেই পরিবেশেই স্বচ্ছন্দ হয়ে ওঠে জীবাণু। তখন আর অন্য প্রাণী থেকে মানুষে রোগটা আসার সম্ভাবনা থাকে না। তাই মাছ-মাংস থেকে নয়, সংক্রমিত মানুষের থেকেই বরং সতর্ক থাকা জরুরি।’

কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক-চিকিৎসক সৌগত ঘোষ জানাচ্ছেন, বাঙালি তথা ভারতীয়দের রান্নার যা অভ্যাস, তাতে অযথা ভয়ের কোনও কারণ নেই। তিনি বলেন, ‘চিনাদের মধ্য কাঁচা খাওয়ার অভ্যাস আছে বলেই বার বার এমন সংক্রমণ ছড়ায় সে দেশে। অতীতে সার্সও ছড়িয়েছিল, এখন এনসিওভি-ও ছড়াচ্ছে। অথচ এই ধরনের ফ্লুয়ের ভাইরাস ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপর আর বাঁচে না। এ দেশে যে ভাবে রান্না করা হয়, তাতে খাবারের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকে দীর্ঘক্ষণ। তাই মাছ-মাংস-কাঁকড়া-চিংড়ি খান নির্ভয়ে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *