Categories
Uncategorized

অবশেষে ভারতের আস্থা অর্জনেই কাজ করছে বিএনপি !

দীর্ঘদিন ধরেই কোন রাজনৈতিক কর্মসূচী নেই বিএনপির। বিএনপির কর্মসূচী বলতে বক্তৃতা-বিবৃতি এবং টক শোতে এসে স’রকারের সমালোচনা করা।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে ২৫ মাস জে’লে ছিলেন সেই সময়ে দলটির রাজনীতি ছিল খালেদা জিয়ার মুক্তিকেন্দ্রিক। এখন সেই রাজনীতিও নেই, বেগম খালেদা জিয়া চার মাসের বেশি সময় ধরে ফিরোজাতে অবস্থান করছেন।

অনেকেই যেটা মনে করেছিল যে, বেগম খালেদা জিয়া জে’ল থেকে বের হলে বিএনপির রাজনীতিতে চাঞ্চল্যতা ফিরবে, কিন্তু হয়েছে তার উল্টো।

বিএনপির রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তো দূরের কথা, বিএনপি আরো রাজনীতিহীন হয়ে পড়েছে এই সময়ে। বিশেষ করে ক’রোনা স’ঙ্কটের সময়ে বিএনপিকে পাওয়া যায়নি জনগণের পাশে,

বন্যার সময় বিএনপি নেতাদের কোন ত্রাণ তৎপরতা চোখে পড়েনি, এমনকি আম্ফানের সময়েও বিএনপির নেত্রীবৃন্দকে জনগণের পাশে দেখা যায়নি।

এরকম পরিস্থিতিতে বিএনপি কোন পথে এগোচ্ছে, লক্ষ্য কি বিএনপির? বিএনপি কি তাঁদের রাজনৈতিক দল হিসেবে গুটিয়ে ফে’লেছে নাকি বিএনপি এখন জিয়ার কবর জিয়ারত ছাড়া অন্য কোন কর্মসূচী পালনের ক্ষ’মতা হা’রিয়ে ফে’লেছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় যে, বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য পরিবর্তিত হয়েছে। বিএনপির রাজনৈতিক প্রধান লক্ষ্য এখন ভারতের আস্থা অর্জন করা।

বিএনপির একাধিক নেতার স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বিএনপি মনে করছে যে, ভারতের আস্থা অর্জন করতে না পারলে বাংলাদেশে কোন

রাজনীতি করাই সম্ভব নয়। আর এই কারণেই বিএনপি ভারতের কাছে এক রকমের আত্মসমর্পন করেছে এবং ভারতের ই’চ্ছা-অনিচ্ছার ক্রীতদাস হয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে পূণর্বাসিত হতে চাইছে।

বিএনপির একাধিক নেতার স’ঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, বিএনপির ভে’তরে বেশকিছু অনুশাসন জারি করা হয়েছে এবং এই অনুশাসনের মোদ্দা কথা হলো ভারত বিরাগভজন হয় এরকম কোন বক্তব্য, মন্তব্য, বিবৃতি যেন না দেওয়া হয়।

গত ২৫ মার্চের পর থেকে এই পর্যন্ত বিএনপির কোন নেতা একটাও ভারতবি’রোধী কোন মন্তব্য বা বিবৃতি প্রদান করেনি। প্রকাশ্যে বিএনপি ভারতের ব্যাপারে খুব নমনীয়

অবস্থান গ্রহণ করছে, এমনকি যে বি’ষয়গুলো বিএনপির গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত রয়েছে, যেমন কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে বিএনপির গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট ভারতবি’রোধী অবস্থান রয়েছে, সেই ব্যাপারেও বিএনপির পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য রাখা হয়নি।

১ বছর আগেও অযোধ্যার রাম মন্দির নিয়ে বিএনপি নেতারা অনেক গরম বক্তৃতা দিয়েছিলেন, এবার যখন রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করা হলো তখন বিএনপি

নেতারা মুখে কুলূপ এঁটে বসেছিলেন। তাঁরা এই নিয়ে কোন মন্তব্য করেনি। তাহলে কি বিএনপি ভারত বি’রোধী রজনীতি থেকে সরে আসছে? বিএনপির একাধিক নেতার স’ঙ্গে কথা বলে এ ব্যাপারে ইতিবাচক উত্তর পাওয়া গেছে।

বিএনপির নেতৃবৃন্দের মধ্যে যারা ভারতপন্থী হিসাবে পরিচিত তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভারতের স’ঙ্গে সম্প’র্ক বিনির্মাণের জন্য। ভারত যেন বিএনপিকে বিশ্বাস করে সেটি পুন:প্রতিষ্ঠা করার জন্য। এই দায়িত্ব পালনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খানসহ আরো কয়েকজন।

উল্লেখ্য যে, ২০০১ সালে ভারতের আশ্রয় নিয়েই ভারতের স’ঙ্গে দেনদরবার করে বিএনপি ক্ষ’মতায় এসেছিল। এ সময় বিএনপি ভারতের স’ঙ্গে গ্যাস বিক্রীসহ বেশকিছু বি’ষয়ে মুচলেকা দিয়েছিল। কিন্তু ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষ’মতায় থেকে বিএনপি ভারতের স’ঙ্গে একরকম চুক্তি ভঙ্গই করেছে বলে মনে করে ভারতীয় কূটনৈতিক মহল।

বিশেষ করে উলফাসহ ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছন্নতাবা’দীদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়াসহ বাংলাদেশের ভূখন্ডে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো কাজগুলো করে বিএনপি- জামাত জোট স’রকার। এইসবের নেপথ্যে তারেক জিয়া ছিলেন বলেও মনে করে ভারতীয় কূটনৈতিকরা। আর এ কারণেই ভারতের স’ঙ্গে এক অবিশ্বাসের সম্প’র্ক তৈরী হয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবা’দী দলের। বিশেষ করে দশ ট্রাক অ’স্ত্র মা’মলা যে সরাসরি তারেকের তত্বাবধানে হয়েছে এ ব্যাপারে ভারতের গো’য়েন্দা সংস্থা মো’টামুটি নিশ্চিত।

২০০৭ সালের পটপরিবর্তনের আগে থেকেই ভারত বিএনপি থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেয়। এরপর বেশকিছু ঘ’টনায় ভারতের স’ঙ্গে বিএনপির আরো দূরত্ব তৈরী হয়। বিশেষ করে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশ সফর করলে খালেদা জিয়া তার স’ঙ্গে সাক্ষাত বাতিল করে, এরফলে ভারত- বিএনপি সম্প’র্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকে।

বিএনপির অনেক নেতাই মনে করেন, ভারত যতক্ষণ না পর্যন্ত বিএনপিকে আশ্রয় না দেবে, ভারত যতক্ষণ পর্যন্ত বিএনপিকে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হিসাবে স্বীকৃতি না দেবে, ততক্ষণ বাংলাদেশে বিএনপির কোন সম্ভাবনা নেই। আর এ কারণেই এখন বিএনপির রাজনীতির মূ’ল লক্ষ্য হলো আগে ভারতকে বশীভূত করা, ভারতের আস্থা অর্জন করা। ভারতের আস্থা অর্জন না করে বাংলাদেশে যা কিছুই করা হোক না কেন তাতে কিছু ফল হবে না এমনটি মনে করেন বিএনপির অধিকাংশ শীর্ষ নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *