Categories
Uncategorized

খালেদার আছে আর মাত্র ৬০ দিন

২৫ মাস জেল খাটার পর গত ২৫ মার্চ বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ বিবেচনায় ৬ মাসের জন্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদন্যতা, করুণা আর অনুকম্পায় তাঁর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বেগম খালেদা জিয়াকে ৬ মাসের জন্যে বিশেষ বিবেচনায় মুক্তি দেওয়া হয়। সেসময় করোনা সঙ্কটের শুরু হয়েছিল এবং বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁর গুলশানের বাসভবনে আসেন এবং সেখানে তিনি এখন পর্যন্ত অবস্থান করছেন।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

গত ৪ মাসে বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে কোন খবর গণমাধ্যমে দেখা যায়নি। যদিও কারান্তরীণ থাকাবস্থায় বিএনপি তাঁর মুমূর্ষুতা নিয়ে নানারকম কথাবার্তা বলেছে এবং বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যু পথযাত্রী এরকম একটি ধারণা জনগণের মধ্যে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু গত ৪ মাসে দেখা গেছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার বার্ধক্যজনিত কারণে ডায়বেটিস আর আর্থাডেটিসের ব্যাথা ছাড়া তেমন কোন সমস্যা নেই। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা করছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক দল এবং তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি বলে সেই চিকিৎসক দল জানিয়েছেন।

এখন এই পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়া তাঁর জামিনের অধিকাংশ সময় পার করেছে। জামিনের চার মাস অতিবাহিত হয়েছে এবং তাঁর জামিনের ৬ মাস আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর শেষ হয়ে যাবে। যদি বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তাঁর জামিনের আবেদন বাড়ানো না হয় তাহলে হয়তো তাঁকে ২৫ সেপ্টেম্বর আবার কারাগারে যেতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার প্রাপ্ত জামিনের এখনো ৬০ দিন বাকি আছে। কাজেই ৬০ দিন পর তাঁকে কারাগারে ফিরে আসতে হবে। তিনি যদি জামিন বাড়ানোর আবেদন করেন তাহলে কি হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন যে, এরকম কোন আবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। আবেদন পাওয়ার পরেই তা আমরা বিবেচনা করবো।

বেগম খালেদা জিয়ার সামনের এই ৬০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই সময়ে বেগম খালেদা জিয়া কি করবেন এবং তাঁর কৌশলগত অবস্থান কি সেটা এখন দেখার অপেক্ষায় আছে সকলেই। বর্তমান অবস্থায় যদি বেগম খালেদা জিয়া থাকেন তাহলে তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধির কোন বাস্তবসম্মত কারণ নেই। কারণ জেলে থাকা অবস্থায় তিনি যে গুরুতর অসুস্থ বলে যা প্রচারিত হচ্ছিল, বাস্তবে তিনি ততটা গুরুতর অসুস্থ নন, মুক্তির পর তা প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই এরকম অসুস্থতা নিয়ে দিনের পর দিন তিনি বাইরে থাকলে সেটা হবে আইনের চরম লঙ্ঘন।

দ্বিতীয়ত বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে একটি অংশ তাঁকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি নেতারাই বলছেন যে, সারাবিশ্বের করোনা পরিস্থিতির কারণে বেগম খালেদা জিয়া এখন দেশের বাইরে যেতে উতসাহী নন। তবে একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব একমাত্র লন্ডনে। কিন্তু তারেক জিয়া বেগম খালেদা জিয়াকে এখন লন্ডনে নিয়ে রাখতে অনাগ্রহী। আর এই কারণেই বেগম খালেদা জিয়া যে এখন বিদেশ যাওয়ার আবেদন করবেন সেটাও অনিশ্চিত। তবে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকার কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে এবং অনানুষ্ঠনিক পর্যায়ে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রা নিয়ে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার চলছে বলেও আভাস দিয়েছে বিএনপির অনেক নেতা।

কিন্তু যে সমস্ত শর্ত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেশ যাত্রার উপর দেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত শর্তগুলো মেনে বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে বিদেশ যাওয়াটা অসম্মানজনক বলে মনে করছেন বিএনপির অনেক নেতা। তাহলে শেষ পর্যন্ত কি হবে? বেগম খালেদা জিয়া কি আগামী ৬০ দিন পর আবার কারাগারে ফিরে যাবেন? তাঁর কি জামিন বৃদ্ধি করা হবে নাকি তিনি বিদেশ যাবেন?

অবশ্য সরকারের একাধিক সূত্র বলছে যে, বেগম খালেদা জিয়া প্রকাশ্য দুই শর্ত এবং গোপনে একাধিক শর্তের মাধ্যমেই কারাগার থেকে ৬ মাসের জামিন পেয়েছিলেন এবং গোপন শর্তের মধ্যে ছিল যে, তিনি কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করবেন না, কোন ধরণের বক্তৃতা-বিবৃতি ইত্যাদি দিবেন না। বেগম খালেদা জিয়া গত ৪ মাসে এই সমস্ত শর্তের বরখেলাপ করেননি। বেগম খালেদা জিয়া বাড়িতেই অবস্থান করেছেন, পারতপক্ষে দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাত করেননি। রাজনৈতিক বিষয়ে তিনি একেবারেই মুখে কুলূপ এটেছিলেন। তাই এটা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তিনি দীর্ঘমেয়াদে বাইরে থাকতে চান, আর কারাগারে যেতে চাননা। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তাঁকে বাইরে রাখার প্রক্রিয়া কি সেটা এখনো অনিশ্চিত। তবে সবকিছু নির্ভর করছে সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বদন্যতার উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *