Categories
Uncategorized

ঝুলে থাকা নেতাদের কি করবে বিএনপি?

গত বছর হুট করে বিএনপির সিনিয়র তিন নেতা পদত্যাগ করলেন। মোরশেদ খান, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান ও সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর বিএনপি থেকে পদত্যাগের বিষয়টি বেশ আলোড়ন ফেলে। এদের মধ্যে দুজন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন। তবে আরিফুল হকসহ সিলেটের চার বিএনপি নেতা যুবদলের কমিটি গঠনের দ্বন্দ্বে পদত্যাগ করেছেন। আরিফ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আশীর্বাদপুষ্টদের কাছে হেরে যাওয়ার পর পদত্যাগপত্র জমা দেন।

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

আর মাহবুবুর রহমান তার স্পষ্টবাদিতার কারণে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরাগভাজন হন। কেন্দ্র থেকে তাকে অবস্থান বদলাতে বলার পর তাতে রাজি না হয়ে তিনি পদত্যাগ করেন বলে তার ঘনিষ্ট কয়েকজন জানিয়েছেন। মাহবুবুর রহমান পদত্যাগ করে চুপ আছেন তাই তাকে নিয়ে মাথাও ঘামাচ্ছে না বিএনপি। কারণ ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি সংস্কারপন্থি ছিলেন এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের একক সিদ্ধান্তেরও তিনি বিরোধী।

অন্যদিকে মোরশেদ খান পদত্যাগ করেছেন তার ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বার্থে। বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা বলছেন, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের পদত্যাগকে দলটি সহজভাবে নেয়নি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের প্রতি ক্ষুব্ধ ছিলেন মোরশেদ খান। সেখানে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

এর বাইরে চট্টগ্রামে দলের রাজনীতিতে তার অনুসারীদের বিভিন্ন পদ থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কমিটিগুলোতে সুফিয়ানের অনুসারীদের গুরুত্ব দেয়া হয়। সবশেষ চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক করা হয় সুফিয়ানকে। এসব নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মোরশেদ খানের দূরত্ব তৈরি হয়। এ নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ ছিলেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা। দলের হাইকমান্ডকে জানানোর পরও কোনো উদ্যোগ না নেয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগের পথ বেছে নিতে বাধ্য হন।

বিএনপি থেকে শীর্ষ নেতাদের পদত্যাগের তালিকা ক্রমশ লম্বা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে বিএনপি ছেড়েছেন বা পদত্যাগ করেছেন মোসাদ্দেক আলি ফালু, আলি আসগর লবি, সমশের মুবিন চৌধুরী, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, পারটেক্স গ্রুপের এম এ হাসেমসহ আরো কিছু নেতা। এদের মধ্যে শুধু ইনাম আহমেদ চৌধুরী ও শমসের মবিন চৌধুরীর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে। কারণ তারা ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও বিকল্প ধারায় যোগ দিয়েছেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, মেজর (অব.) শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল্লাহ আল নোমানসহ একাধিক নেতা বিএনপি থেকে পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে গত বছর থেকেই। তারা দলে নিস্ক্রিয় হয়ে আছেন।

বিএনপিতে এখন এই পদত্যাগী, নিস্ক্রিয় এবং অবসরপ্রাপ্তদের ঝুলিয়ে রাখার কৌশল নেয়া হয়েছে। কারণ দলে তাদের অতীতের অবদান এবং ভবিষ্যতে যদি কখনো সক্রিয় হন, সেই আশায়। এছাড়া নিস্ক্রিয়দের বেশি কিছু বলছেন না তারা। তবে কয়েকটি সূত্র বলছে, যারা পদত্যাগ করছেন তারা বেশিরভাগই ব্যবসা বাণিজ্যের স্বার্থে পদত্যাগ করেছেন। বিএনপি এইসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিয়মিতই অর্থ সাহায্য পাচ্ছে এখনো। নিস্ক্রিয়রাও নিজেদের স্বার্থেই চুপ করে আছেন।

তবে অনেকের মতে, খালেদাপন্থী এসব নেতা তারেক জিয়ার বিরাগভাজন হয়েই দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। তাদের কোন পদ পদবিতেও রাখা হয় না। কোন মিটিংয়েও ডাকা হয় না শুধুমাত্র তারেক জিয়ার কারণে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *