Categories
Uncategorized

সবচেয়ে প্রশংসিত শেখ হাসিনা

কোন দেশ কিভাবে মোকাবিলা করছে করোনাকে? সেই প্রশ্নের আগে যদি এই করোনাকালে কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা কিভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন সেই হিসেব করি, সেটা অযৌক্তিক কিছু হবে না। কারণ এই কঠিন সময়ে নিজেকে বিতর্কের উর্ধে রেখে দেশ পরিচালনা করা অন্য সময়ের চেয়ে অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং ছিলো। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কথা যদি বলি, একের পর এক বেঁফাস মন্তব্য করে নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনায়। এই করোনাকালেও নানা কারণে তিনি সমালোচিত। ভারত-চীনের রাষ্ট্রপ্রধানরা ব্যস্ত আছেন সীমান্ত নিয়ে। এর মধ্যে নরেন্দ্র মোদি হয়েছেন নানা কারণে সমালোচিত। চিনের সীমান্ত অতিক্রম নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন।

কিন্তু এইসব বিশ্বনেতার বিপরীত চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে। শেখ হাসিনা যেমন করোনার সঙ্গে লড়াই করছেন তেমনি দুর্নীতির সঙ্গে। শেখ হাসিনা বিরোধী দলগুলো কি বলছে সেই উত্তর নয়, দেশের মানুষ কিভাবে ভালো থাকবে আগে সেই চিন্তা করছেন। শুধু করোনা মোকাবিলা নয়, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে মুক্তিও শেখ হাসিনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। করোনার সঙ্গে লড়াইয়ের অস্ত্র ‘ভ্যাকসিন’ কূটনীতিতেও সবাইকে হারালেন। বাংলাদেশ ভ্যাকসিন আবিস্কানে এখনো সফল হয়নি তাতে কি, শেখ হাসিনা ঠিকই কূটনৈতিক দৌড়ে সকলকে হারিয়ে বাংলাদেশের মানুষের জন্য ভ্যাকসিন নিয়ে আসছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ-বাণিজ্য বিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসে সম্প্রতি প্রকাশিত এক নিবন্ধে করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলায় দ্রুততার সঙ্গে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়েছে। কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবার্গ-কক্স তাঁর এ নিবন্ধে লেখেন-‘‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৬ কোটি ১০ লাখের মত মানুষের দেশ বাংলাদেশ সমস্যা-সংকটের সঙ্গে অপরিচিত নয়।

তিনি এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, যাকে ‘প্রশংসনীয়’ বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম।’’ আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক নিউজপেপার দ্য ইকোনমিস্ট করোনা পরিস্থিতিতে অর্থনীতির নিরাপত্তা নিয়ে অতি সম্প্রতি যে গবেষণা তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে দেখা যায় ভারত-চীন থেকেও নিরাপদ বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের অনন্য এসব অর্জনে যিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তিনি হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছেন আজকের পরিপক্ক রাজনীতিবিদ “শেখ হাসিনা”। প্রবল দেশপ্রেম এবং গণমানুষের প্রতি তীব্র দায়বদ্ধতা ‘‘জননেত্রী’’ হিসেবে তাঁকে পরিচিত করেছে। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন-অভিজ্ঞ সরকার প্রধান হিসেবে তাইতো তিনি দ্রুততার সঙ্গে নিতে পেরেছেন একের পর এক সঠিক ও কার্যকর সিদ্ধান্ত। আমেরিকান লেখক জন ক্যালভিন ম্যাক্সওয়েলের ভাষায়-

“The pessimist complains about the wind. The optimist expects it to change. The leader adjusts the sails.”

প্রশ্ন হলো, কেন শেখ হাসিনার এই সম্মান? কি আছে তার ব্যক্তিত্বে? কি আছে তার নেতৃত্বে? প্রথমত শেখ হাসিনা সৎ, স্বচ্ছ ও দেশপ্রেমিক। ব্যক্তিকেন্দ্রিক নন, বহুমাত্রিক। তিনি ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তিনি সব কিছু পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি একজন আশাবাদী মানুষ।

ছোট্ট একটি ভূখন্ডের বাংলাদেশে প্রায় ১৭ কোটি লোক। এই মানুষের বড় একটি শ্রেণী লুটেরা চরিত্রের। যাদের লোভের কোন শেষ নেই। যা পায় সবই প্রায় লুটেপুটে খেতে চায়, খায়। সেই দেশটিকে আত্মনির্ভর করার জন্য শেখ হাসিনার পরিকল্পনা, দৃঢ়তা ও নেতৃত্বই হচ্ছে বাংলাদেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। নানা সঙ্কটে বাংলাদেশের মানুষ প্রায়ই হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের মনের সাহস।

৫৪ হাজার বর্গমাইলের বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত উন্নয়নের রোল মডেল। রাজনৈতিক দর্শনে একটা কথা আছে, সত্যিকার রাজনীতিবিদের কোন আত্মীয় থাকে না। তিনি কারও পিতা-মাতা, ভাই-বোন হতে পারেন না। তিনি সকলের। তার কাছে সবাই সমান। এই বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছেন। বর্তমানে দেশে দুর্নীতিবিরোধী যে অভিযান চলছে তা আরও জোরদার করার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, দুর্বৃত্ত যেই হোক ছাড় নয়। এখনও পর্যন্ত সেভাবেই চলছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে গোটা দেশের মানুষ একমত। সকলের অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। তার নির্দেশেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একের পর এক অভিযান চালাচ্ছে। সাধারণ জনগণের মিলছে একের পর এক স্বস্তির খবর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *