Categories
Uncategorized

স্বেচ্ছায় পদত্যাগ, নাকি পদত্যাগে বাধ্য?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগ খুব শীঘ্রই কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেছে সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র। প্রশ্ন উঠেছে যে, আবুল কালাম আজাদ কি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলেন নাকি তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে?

কবিরাজ: তপন দেব । এখানে আয়ুর্বেদী ঔষধের মাধ্যমে- নারী ও-পুরুষের সকল প্রকার- জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেননি আবুল কালাম আজাদ। তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। সরকারের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, স্বেচ্ছায় যদি পদত্যাগ করতেন তাহলে অনেক আগেই তার সরে যাওয়ার উচিত ছিলো নিজের মান সম্মান রেখে। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতকে এমন একটি জায়গায় নিয়ে গেছেন যে সারাদেশের মানুষ স্বাস্থ্য সেবার ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলেছে।

সরকারের ওই উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে তাকে সরিয়ে দেওয়া ছাড়া সরকারের কাছে আর কোন বিকল্প ছিলো না। এরকম একটি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে দুটি অপশন দেন, তিনি নিজে পদত্যাগ করবেন অথবা তাকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আর এই দুটি অপশনের মধ্যে প্রথম অপশনটি বেছে নেন ডা. আবুল কালাম আজাদ।

উল্লেখ্য যে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে করোনা মোকাবিলার শুরু থেকেই দায়িত্বহীনতা, অযোগ্যতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের সীমাহীন স্বেচ্ছাচারিতায় ক্ষুব্ধ ছিলেন সরকারী চিকিৎসক পর্যন্ত। এই পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে বারবার নির্দেশনা ও তিরস্কার করা হয়েছিলো। কিন্তু একটা পর্যায়ে সরকারের নীতি নির্ধারকরা বুঝতে পারে যে তিনি সরকারকে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য স্যাবেটাস করছেন।

এরকম পরিস্থিতিতে জেকেজি, রিজেন্ট কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাগুলো যখন প্রকাশ হতে থাকে তখন নড়েচড়ে বসে এবং সরকার তার চুক্তি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করে। কাকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা যায় সে ব্যাপারে কাজ শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, দায়িত্বহীনতা এবং দৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের জন্য তিরস্কার করা হয়। এরকম অবস্থায় তাকে বলা হয় তিনি পদত্যাগ করতে চান কিনা। এই পরিস্থিতিতেই তিনি একরকম বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেন।

প্রশ্ন উঠেছে যে, সরকার কেন তাকে পদত্যাগের সুযোগ দিলো? কেন তাকে সরিয়ে দিলো না? এর উত্তরে সরকারের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন যে, এই করোনাসংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী চেয়েছেন যে প্রত্যেকের দায়িত্ববোধের উদয় হোক। নিজ থেকে সে সরে যাক। কারণ সরকার তাকে সরিয়ে দিলে তিনি ‘হিরো’ হওয়ার সুযোগ পেতেন। কারণ জামাত- বিএনপি ঘরানার এই ব্যক্তিটি যে কাজগুলো করছিলো সেসবগুলোই সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত স্যাবোটাজ বলে মনে করছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আর এ কারণেই সে যেন মহাপরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার পর নতুন কোন মিথ্যাচার না করতে পারে সেজন্যই তাকে পদত্যাগের জন্য বলা হয়েছিল। অন্য কথায় বলা যায়, পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *