বৃষ্টি ভেজা রাত

অফিস থেকে ফিরতে অনেক দেরি হয়ে গেল। গাড়ি থেকে নামতেই সম্পূর্ন ভিজে গেলাম আমি। কারনটা জমকেস বৃষ্টি হচ্ছিলো। হচ্ছিলো বর্জপাত। তারাতারি চাবি দিয়ে বাড়ির গেইট খুলে ভিতরে ঢুকলাম।
গা-হাত মুছতেই হটাৎ ডোর বেল বেঁজে উঠলো।

কে আসলো এতো রাতে। রাততো আর কম হলো না। ১২.০০ টার কাছা-কাছি।
রীতিমত ঝড় হচ্ছে। তাই কারেন্ট টাও চলে গেলো। হয়তো বৈদ্যুতিক তার ছিড়ে গেছে। হাতে মোমবাতি নিয়ে গেইটের কাছে গিয়ে গেইট খুলতেই দেখি এক যুবতি মেয়ে। বৃষ্টির পানিতে সম্পূর্ন ভিজে গেছে।

থ্রি-পিছ পড়া মেয়েটির দুধে আলতা গায়ের রং, টানা-টানা চোখ, চোখের সামনে ভিজে থাকা কাঁটা চুলের ছাওনিতে অদ্ভুত সুন্দর লাগছিলো।
কিন্তু বুঝে উঠতে পারছিলাম না, এত রাতে এই মেয়েটি এখানে কি করছে? আর কার কাছেই বা এসেছে? দুজন দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি, আর মনের মধ্যে প্রশ্নের সমারহ। মেয়েটি আমাকে কিছু একটা বলতে চাইছে। যা তার চোখের পানে ভেসে উঠছে।
-কে আপনি? আপনাকে তো চিনি বলে মনে হচ্ছে না?

~আমি এ পথ দিয়েই যাচ্ছিলাম। কিন্তু বৃষ্টির কারনে আর সামনে এগুতে পারছি না। কোন গাড়িও নেই এখানে।
-তো আমার বাড়ির বেল বাঁজানোর কারন কি?
~মনে হচ্ছে ঝড় আরো কয়েক ঘন্টা হবে। আর অনেক রাত ও হয়ে গেছে। এত রাতে কি ভাবে যাব? তাই ভয়ে বেল বাজিয়েছি। আপনার বাড়িতে আজকের মত থাকা যাবে? আমার অনেক উপকার হত!

আমি কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। বাড়িতে কেউ নাই। আমার ফ্যামালিতে আমি আর বাবা ছাড়া কেউ নেই। মা মারা গেছে যখন ছোট ছিলাম তখনি। কিন্তু গত ২ দিন আগেই বাবা মক্কায় যাত্রা করেছে হজ্জের আশায়। এত বড় বাড়িতে আমি একা আর একটি মেয়ে আমার বাড়ির গেইটের সামনে দাঁড়ানো, শুনতেও তো কেমন জানি লাগে।
প্রকৃতির নিয়মে বিদ্যুৎ চমকাতেই ভয়ের কারন বশত আমাকে জড়িয়ে ধরতে দ্বিধা করলো না মেয়েটি।
-কি করছেন? ছাড়েন ছাড়েন !!!!

~দয়াকরে আমাকে ভিতরে যেতে দিন। বাহিরে অনেক ঠান্ডা আর আমি অনেকক্ষন যাবত ভিজে আছি।
-আচ্ছা আসুন কিন্তু বাড়িতে আমি এখন একাই আছি। আর কাল সকালেই আপনাকে চলে যেতে হবে।
~আমি চলে যাবো কোন সমস্যা হবে না আপনার।
-ঠিক আছে।

মেয়েটি ঢুকতেই বাড়ির মেঝে কাঁদা-পানিতে তলিয়ে গেলো। পিছন থেকে মনে হচ্ছিলো সুন্দর্যের প্রতিমা। পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য। যে কোন পুরুষ দেখলে নিজেকে কাবু রাখতে পারবে না। নিজের অজান্তেই কুমতলব বাসা বাঁধবে মস্তিষ্কে।

-ওয়াসরুম ঐদিকে।

কিছু না বলেই চলে গেলো। হাত-পা কাঁদার কবল থেকে মুক্ত করে ভিজা শরিরে আমার সামনে এসে হাজির হলো। শীতে কাঁপছে মেয়েটি।

-এখানে তেমন কাপড় নাই। এখন কি করবেন? ~আপনার কিছু কাপড় পেলে ভালো হত।

মেয়েটির কথাশুনে আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। ঘর থেকে আমার একটা লুঙ্গী আর একটা শার্ট এনে দিলাম। কাপড় নিয়ে আবার ওয়াসরুমে চলে গেলো।
এসব কি হচ্ছে আমি কিছু বুঝতে পারছিলাম না। মাথা কাজ করছিলো না আমার। কেউ যদি জানতে পারে আমার বাড়িতে এমন একটা সুন্দরী মেয়ে আছে তাহলে যা-তা ভেবে নিবে এতে কোন প্রকার সন্ধেহ নেই। বদনামের চূড়ান্তে নিয়ে যাবে মেয়েটিকে, আমাকেও ছাড় দিবেনা কোন অংশে।

-আমার চা খেতে ইচ্ছে করছে। চা খাবেন আপনি?(উচ্চ স্বরে) ~হুম আমি কিচেনে যেতেই রেডি হয়ে বেড়িয়ে এলো মেয়েটি। ~আপনি কি কিচেনে? -হুম। ~আপনি বসুন। আমি চা করে দিচ্ছি।

লুঙ্গি আর শার্ট পরাতে মেয়েটিকে অদ্ভুত লাগছে। মাথার চুল গুলো কোমড় পেড়িয়ে হাঁটুকে স্পর্স করতে চাইছে।এত বড় চুল আমি এর আগে দেখি নি। চুলের পানিতে ভিজে গেছে শার্টের অর্ধেকটা আর লুঙ্গির কথা না বলি।
~এই নিন। -বসুন। ~ধন্যবাদ আপনাকে। আপনি না থাকলে হয়তো আজ আমাকে বড় কোন বিপদের মুখে পরতে হত। -ইটস ওকে। আপনার নাম কি? আর কই থাকেন?

~আমি একটা শিক্ষক। এক ছাত্রীর বাসায় ছিলাম। কিন্তু এতো দেড়ি হবে বুঝতে পারি নি। -এত রাতে ছাত্রীর বাসায়? ~দাওয়াত ছিলো। আজ ওর জন্মদিন। আমাকে বাড়িতে পৌছে দিতে চেয়েছিলো কিন্তু আমি মানা করে দিয়েছিলাম। -ওহ……… আমি ঐ রুমে থাকি আর আপনি ওইটাতে থাকবেন। কোন কিছু দরকার হলে আমাকে বলবেন। ~আমার অনেক ক্ষুধা লেগেছে!

-আপনি না দাওয়াত থেকে এসেছেন? ~হুম। কিন্তু ভয় পেলে আমার অনেক ক্ষুধা লাগে। বিষয়টা হাস্যকর হলেও সত্যি। যদি কিছু মনে না করেন আমাকে কিছু খাবার দেওয়া যাবে? -খাবার টেবিলে ঐ দিকে।

মেয়েটির কথা শুনে আমি রীতিমত অবাক হয়ে যাচ্ছি। অনেক ফ্রি ভাবে বলে দিচ্ছে সব কিছু। প্রথম দিনে এতো ফ্রি ভাবে কথা বলাও কি সম্ভব? আমি এমনটা পারবো না।

-এই নিন। খেয়ে শুয়ে পরবেন। আমি গেলাম।
~আপনি খাবেন না?
-ক্ষুধা নাই আমার।

এই বলে চলে আসলাম নিজের ঘরে। ক্ষুধায় পেটের মধ্যে ইঁদুরেরা যুদ্ধ ঘোষনা করে দিয়েছে। কিন্তু কিছু করার নেই। একজনের খাবার ছিলো তাই ওকে দিয়ে চলে আসতে হলো। ২ গ্লাস পানি পানে শুয়ে পরলাম।
ঠক ঠক……… ঠক ঠক………

ঘরের দড়জায় নক করছে মেয়েটা হয়তো। -কে? ~আমি। ভিতরে আসবো? -আবার কি চাই? আসবো বলে তো এসেই পরেছেন। কি লাগবে বলেন? ~আসলে আমি অনেক দুঃখিত। আপনার জন্য, এই নিন। -আপনি খাবেন না? ~দুজনে মিলে-মিশে খাই। বিষয়টা কি খারাব দেখাবে?

আমি মুচকি হেঁসে বললাম ‘না’। মেয়েটা আমার খাটে বসেই খাবার শেষ করলো। আর আমি কোন রকমে ইঁদুর গুলোকে শান্ত করে রাখলাম, সকাল পর্যন্ত।

-ধন্যবাদ। এখন ঘুমাতে যান।
~হুম।

আমি দড়জার দিকে তাকিয়ে আছি আর মেয়েটা দড়জা লাগিয়ে চলে যায়। সব চিন্তা বাদ। কাল সকালে সবার আগে মেয়েটিকে বিদায় করে দিতে হবে তারপর আবার অফিস। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখের পাতা নেমে গেলো বুঝতেই পারলাম না। আমি ঘুম পাতলা মানুষ হওয়ায় ঘুমের ঘোড়ে হাত নাড়াচাড়া করতেই মনে হলো কেউ আমার পাশে শুয়ে আছে। চোখ খুলতেই দেখি মেয়েটি আমার পাশে।
-এই(রাগান্বিত কণ্ঠে)। আপনি এখানে কেন?

পরবর্তী পর্ব দেখার জন্য অপেক্ষা করুন, ভালো লাগলে অবশ্যই বলবেন।😇😇

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*