Categories
Uncategorized

তাঁদের শক্তির উৎস কী!

আমাদের মত দেশে শক্তি দুই প্রকারের। এক হচ্ছে অর্থনৈতিক শক্তি আরেকটি হচ্ছে রাজনৈতিক শক্তি। অর্থনৈতিক শক্তিতে কেউ বলিয়ান হলে বর্তমান বিশ্ব-ব্যবস্থায় মিলিয়নিয়ার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীন ইউরোপ আমেরিকার অনেক দেশেই বলতে গেলে রাতারাতি নাগরিকত্ব পাওয়া যায়, পাওয়া যায় সেই দেশের পাসপোর্ট। অর্থনৈতিক শক্তি দিয়ে রাজনৈতিক শক্তিকে কেনা যায়।

উন্নত দেশ তাঁদের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি চাঙ্গা করতে মিলিয়নিয়ার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীন আমাদের মত গরীব দেশের বিত্তশালী মানুষকে নাগরিকত্ব দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে তাঁদের অর্জিত টাকা সাদা না কালো না অবৈধ তার কোন খেয়াল তারা করেন না। এর জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারতের অনেক দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতা ও আমলা ব্রিটেনে মহাসুখে বসবাস করছেন।

এদের অনেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগ থাকলেও সে সব দেশের সরকার তাঁদের দেশের আইনের নানা প্যাঁচ দিয়ে শুধু তাঁদের দেশের অর্থনীতির স্বার্থে এসব দুর্নীতিবাজদের রেখে দেয়। আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যায়। তা হচ্ছে- ক্যালিফোর্নিয়ায় মিলিয়নিয়ার মাইগ্রেশন কর্মসূচীর ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে, ধনী ব্যক্তিদের জন্য অভিবাসনের ক্ষেত্রে বাধা কম। এ কারণ রাজ্যগুলি সর্বদা কম করের হারের সাথে ধনী ব্যক্তিদের আকর্ষণ (বা ধরে রাখতে) প্রতিযোগিতা করে।

এখন আইটির যুগ ইন্টারনেটে সার্চ দিলে মিলিয়নিয়ার মাইগ্রেশন কর্মসূচীর নানা তথ্য আমরা কয়েক মিনিটেই পেয়ে যেতে পারি। তাই আমাদের মত দেশে যারা যে কোন উপায়ে বিপুল টাকার মালিক বনে যান, তারা কোন আইন কানুন মানেন না, কাউকে কেয়ার করেন না। তাঁদের যা ইচ্ছা তাই করতে থাকেন।

গতকাল বৃহস্পতিবারের একটি খবরে বলা হয়েছে যে, সরকার প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশের পরেও সরিয়ে দেওয়া হয়নি বহুল বিতর্কিত ছাত্রদলের একজন সাবেক ক্যাডার ও ড্যাব নেতা ডা. মো. ইকবাল কবীরকে। তিনি এখনো ৪টি দায়িত্ব পালন করছেন। প্রথমত তিনি পরিচালক (পরিকল্পনা) হিসেবে কাজ করছেন। তারপর তিনি লাইন ডিরেক্টর (পরিকল্পনা) পদেও রয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ইমার্জেন্সি কোভিড রেসপন্স প্রকল্পে তাকে প্রকল্প প্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এডিবির অর্থ সহায়তায় ‘টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স প্রজেক্ট অন কোভিড-১৯’ এর প্রকল্প প্রধানও করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ এবং সিএমএসডি নব নিযুক্ত পরিচালক আবু হেনা মোরশেদ জামানসহ প্রধানমন্ত্রীর নিজ কার্যালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী বৈঠক করেন। এই বৈঠকের এক পর্যায়ে প্রশ্ন করেন কে এই ইকবাল কবীর? তাকে কেন ৪ পদে রাখা হয়েছে? স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কি লোকের অভাব পড়েছে?

এই প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, তিনি এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। প্রধানমন্ত্রী অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে, আপনারা জানেন না কেন? তাকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পরও গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৪ টি পদেই বহাল ছিলেন ডা. ইকবাল কবীর।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিউবা বিপ্লবের মহানায়ক প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে বলা একটা কথা মনে পড়ে। তিনি বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, “এক্সেলেন্সি, দুনিয়ার কোথাও যুদ্ধে পরাজিত প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নতুন প্রশাসনে আর দায়িত্ব দেয়া হয় না। বাংলাদেশে আপনার মহানুভবতায় ওরা প্রাণে রক্ষা পেয়েছে এই-ই তা যথেষ্ট,

যুদ্ধোত্তর দেশে এ ধরনের অফিসার পুনর্বাসনের প্রশ্নই উঠতে পারে না। দেখুন না সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের পরাজয় হলে, মার্কিন প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মচারী এমন কি রাষ্ট্রদূতদের পর্যন্ত বিদায় নিতে হয়।“ কেন কমরেড ফিডেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুকে এ কথা বলেছিলেন, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাচ্ছে।

যারা সরকার প্রধানের কথা অমান্য করেন, তাঁদের শেকড়ের খবর নিলে অনেক অবাক করা তথ্য বেরিয়ে আসবে, যা তাঁদের এমন দুঃসাহসিক কাজ করায় জেনেটিক্যালি উৎসাহিত করে, তাঁদের শক্তির উৎস। অথবা তারা মিলিয়নিয়ার মাইগ্রেশন কর্মসূচীর সুবিধা নিয়ে ফেলেছেন, এখন অপেক্ষা করছেন অতিরিক্ত কিছু কামিয়ে যে কোন সময় দেশ ছেড়ে পালানোর। দেশ প্রেম, মানুষের কাছে দায়বদ্ধতা তাঁদের কাছে টাকা কামানর জন্য এক ধরণের অলংকারিক কথা মাত্র। যদিও তারা বলেন যে তারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী কিন্তু প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ তাঁদের টাকায় দেওয়া প্রজাতন্ত্রের নূন্যতম সেবা থেকে বঞ্চিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *