Categories
Uncategorized

দিনরাত মানুষের সেবা দিয়ে ,অ’সুস্থ হয়ে আজ নিজেই চলে গেল চিরঘু’মের দেশে

আর ২০ মে আমফান ঝড়ের রাতে একটা নার্সিং অফিসার ডিউটি করতে করতে অসুস্থ হয়ে নিজেই শয্যাশায়ী রোগী হয়ে

মা’রা গেলেও কেউ জানতে পারে না। সুনীতা মন্ডল, পেশায় সেবাব্রতী (নার্স) । মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। কোভিড ওয়ারিওর ।

আমর’া আমা’দের আর এক সহযো’দ্ধাকে হারালাম।ব্যক্তিগত সূত্রের খবর। PCOD ছিলো, সেদিন

সাডেনলি পেটের ব্যথা আর প্রচন্ড বমি নিয়ে ভর্তি হয়।কোনো ফ্লুইড,ওষুধ কাজ করেনি, ইউরিন আউটপুট ভালো

ছিলো না, প্রেসার 60/10 , কিডনি ফেইলিওর। MMCH এর CCU থেকে নীলরতন হসপিটাল থেকে পিজিতে রেফার

করলেও সেখানে তার জায়গা হয়নি কারণ জানা যায় সেখানে বেড নেই ।

এমনিতেই প্রতিদিনকার রবিতে হসপিটালে ভর্তি তার সাথে আবার যুক্ত হয়েছে ক’রোন হলে রাজ্যের প্রতিটি হসপিটালে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। নিজে একজন

চিকিৎসা সেবিকা হয়ে নিজের চিকিৎসায় ঠিকঠাক হলো না। পরিবারের সকলের একটা বড় আ’ক্ষেপ রয়ে গেল। শেষমেশ

একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও ডাক্তারবাবু দেখেই জানান অবস্থা ভালো না, ইনটুবেট করা হয়,2 বার

ডায়ালিসিস করা হয়।

কিন্তু ডাক্তারদের সব চেষ্টা বিফলে যায়। আর পরিবার ও পারছিলনা বেসরকারি হাসপাতালের খরচা

বহন করতে । মাত্র দেরবছর এই প্রফেশন আশা, অনেক স্বপ্ন নিয়ে। আর কুড়িতেই ঝড়ে গেলো কুঁড়ি। কতটুকুই বা বয়স

তার জীবন যার শুরু হলোনা মোটেই! অচিরেই নিভে গেল। ভীষন প্রাণবন্ত,সদা প্রাণোচ্ছল একটি মেয়ে,। সে কাজকে

এতোটাই ভালবাসতো সারাক্ষণ কাজ কাজ কাজ আর কাজ করে মাথা নিজের শরীরের প্রতি তার যত্ন নেয়া ভুলেই

গেছে ।

তার জীবনে একটাই বলতেছিল মানুষকে নিঃস্বার্থ সেবা দিয়ে যাব’েন। পুরোপুরি মৃ’’ত্যুর আগে পর্যন্ত তার

সম্পূর্ণ টুকু দিয়েছে মানুষের সেবা করে গেছে। তার মুখে ছিল না কোনো ক্লান্তির ছাপ। ছিলনা কোন বির’ক্ত সব সময়

হাসিমুখেই সে মানুষের সেবা করে গেছে।

এই সেদিন ও যে মেয়েটি সারা ওয়ার্ডময় ঘুরে ঘুরে রোগীকে সেলাইন

চালিয়েছে,মেডিসিন খাইয়েছে , ইজেক্শন দিয়েছে, জ্বর মেপেছে, সুগার, প্রেসার চেক করেছে,খাবার খাইয়েছে, কখন

কাউকে এক ইশারায় গোল্লা পাকানো চোখ দেখিয়ে চুপ করিয়েছে, কারোর মাথায় হাত রেখে সেরে ওঠার তাকৎ জুগিয়েছে

অন্যকে, সে নিজেই আজ চুপ,অচল ,অসাড়। নিজেই আর সেরে উঠতে পারল না। সে আর কোনো পেশেন্ট এর নাম আর বেড নাম্বার ধরে ছুটি নিয়ে যাও বলে ডাক দেবেনা। সে নিজেই ছুটি নিয়েছে যে চিরতরে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *