Categories
Uncategorized

আপনি জিহ্বার রঙ দেখেই বুঝে নিন শরীরে কোন রোগ বাসা বেঁধেছে।

নিশ্চয় দেখেছেন, ডক্টর জিহ্বা দেখে রোগীকে পরিক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেন। কারণ জিহ্বা দেখেই বোঝা যায় ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত রোগী। জিহ্বা স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক কিছুই বলতে সক্ষম। জিহ্বার আকার, গঠন এবং রঙ এর ওপর ভিত্তি করেই স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বোঝা সম্ভব। তবে এর জন্য আপনাকে সকাল বেলা দাঁত ব্রাশ করার আগেই প্রাকৃতিক আলোতে জিহ্বাটি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আর দিনের অন্য কোনো সময় পরীক্ষা করতে চাইলে কোনো খাবার খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা পর তা করতে হবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোন রঙয়ের জিহ্বা কি সংকেত দেয়-

১. নীল: কি’ডনি রোগের লক্ষণ হলো জিহ্বার রঙ নীল হওয়া। ২. ফ্যাকাশে জিহ্বা: ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি হলে জিহ্বা ফ্যাকাশে হয়ে যায়। ৩. সাদা: শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিলে জিহ্বার রঙ সাদা হয়ে যায়। এছাড়া ছত্রাক সংক্রমণ এবং ফ্লুর লক্ষণও হতে পারে এটি।

৪. ধুসর: হজম প্রক্রিয়ার কোনো রোগ হলে এমন রঙ হয় জিহ্বার। ৫. ভারী সাদা আস্তরণ: জিহ্বার উপরিভাগে ভারী সাদা আস্তরণ পড়লে বুঝবেন দে’হে কোনো বিষক্রিয়া হয়েছে বা সংক্রামক রো’গে আক্র’মণ করেছে। ৬. হালকা গোলাপি: জিহ্বার আদর্শ রঙ হলো হালকা গোলাপি। এই রঙের জিহ্বা স্বাস্থ্যকর দে’হের নির্দেশক। একটি স্বাস্থ্যকর দেহের জিহ্বা দেখতে এমনই হয়।

৭. লাল: লাল রঙের জিহ্বা আপনি যেকোনো সং’ক্রামক রো’গে আ’ক্রান্ত হয়েছেন তার নির্দেশক। এ থেকে আরো বুঝা যায় যে দেহে বা রক্তে কোনো ধরনের প্রদাহ সৃষ্টিকারী প্রক্রিয়া চলছে। ৮. উজ্জ্বল লাল: হৃ’ৎপি’ণ্ডের কোনো রো’গের লক্ষণ উজ্জ্বল লাল জিহ্বা। অনেক সময় এটি আপনার র’ক্তে কোনো রোগ থাকারও লক্ষণ হতে পারে।

৯. হলুদ: পাক’স্থলী বা লি’ভারে কোনো সমস্যা হলে জিহ্বার রঙ হলুদ হয়। ১০. বেগুনি বা র’ক্তবর্ণ: ফুস’ফুস এবং হৃ’দরোগ থাকলে জিহ্বার এমন রঙ হয়। ১১. বাদামি আস্তরণ: ফুস’ফুসের কোনো রোগের লক্ষণ এটি। ১২. হলুদ আস্তরণ: হজম প্রক্রিয়ায় কোনো সমস্যা হলে এমন আস্তরণ পড়ে। ১৩. ধুসর আস্তরণ: গ্যাস্ট্রি’টাইটিস এবং পেপটিক আল’সারের লক্ষণ এটি।

১৪. কালো রঙ: সাধারণ কারো কারো জন্ম থেকেই এ রকম রঙ থাকতে পারে। তবে যদি হঠাৎ কালো রঙ দেখেন তা হলে বুঝবেন এক সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ব্যাক্টে’রিয়া জমা হয়েছে জ্বিবে। তবে শুরু থেকেই এমনটা হবে না, প্রথমে হলুদ, তার পরে ব্রাউন, তার পর কালো রঙ হবে। ১৫. হলুদ রঙ: জ্বিবের রঙ সাধারণ এমন হয় না। যখন হবে, তখন বুঝবেন লিভারে বড় সমস্যা রয়েছে। সম্ভবত জ’ন্ডিস হয়ে গেছে। দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

১৬. পার্পল রঙ: দীর্ঘ দিন ধরে শরীরে কোনো সমস্যা থাকলে জ্বিবের রঙ পার্পল হতে শুরু করেন। এটার অর্থ শরীরে ভিটা’মিন বি-এর ভীষণ ঘাটতি রয়েছে। মনে রাখবেন, শরীরে অন্যতম গুরু’ত্বপূর্ণ অ’ঙ্গ হল জ্বিব। তবে আমরা অনেকেই এর খেয়াল রাখি না। প্রতিদিন জ্বিব পরিষ্কার রাখলে অনেক রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। তাই রোজ সকালে দাঁত মাজার সময়ই জ্বিব ভালো করে পরিষ্কার করে নিন। তবেই সুস্থ থাকবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *