Categories
Uncategorized

আমার শরীর বেচতে কোন লজ্জা নেই

শরীরটা তোমার, তাই কিছু হারাবার ভ’য় নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় অভিনেত্রী ঋ। ভারতীয় বাংলা গণমাধ্যম অভিনেত্রী ঋ-এর একটি সাক্ষাৎকারমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন

কবিরাজ: তপন দেব । নারী-পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

শতরুপা বসু। বন্ধুরা আমায় বদমেজাজি বলে। কিন্তু যে কথাটা শুনলে আমার সত্যিই হেব্বি রাগ হয়, সেটা হল ‘বোল্ড’। দিনরাত শুনি, ফেসবুকে, মেসেজে, কেউ আলাপ করতে চায় কারণ আমি নাকি

বোল্ড, সাহসী। এটা শুনলে আমি যে তাদের মনে মনে খিস্তি করি না, তা নয়। কারণ আমার রাগ হয় এই ভেবে যে, তারা আমায় কতটা চেনে? আদৌ কি তারা আমার শরীরের ‘পলিটিক্স’টা নিয়ে ভাবে?

কেন আমি উদোম হই কিছু বিশেষ ধরনের সিনেমায়, কিছু বিশেষ ধরনের মানুষের জন্য? নিজের শরীরের চেতনাবোধ অনেক ছোট বয়সেই এসেছিল। তখন বোধহয় আমি চার কি পাঁচ। মায়ের হাত ধরে যাচ্ছি পাড়ার দরজির কাছে নতুন জামার মাপ দিতে। দোকানটা ছোট আর রাস্তার ওপর। প্রাইভেসি বলে কিছু নেই। সে দিন প্রথম আমার একটা লজ্জাবোধ হলো। দরজি মাপ নিচ্ছে, আর আমি লজ্জা পাচ্ছি।

মা’কে বললাম, ‘আমি বাড়ি যাব, লজ্জা লাগছে।’ মা খুব ধমকে বলল, ‘এইটুকু মেয়ে আবার লজ্জা!’ আমার এখানে একটা ‘ডাইকটমি’ মনে হলো। আমার শরীর চাইছে লজ্জা। কিন্তু আমার মা, একজন মেয়ে হয়ে বলছে, লজ্জা কীসের? তাই ভাবলাম, যদি আমি নির্লজ্জ হই, তা হলে কেমন হয়? বাড়ির মদদ ছিল। ‘চ্যাম্পিয়ন’ মা, মাসিরা এবং আমার ‘কুল-ক্যাট’ মামিমা— সবাই চাইত আমি ‘ফ্রি

স্পিরিটেড’ হই। হয়তো চাইত আমি অভিনেত্রী হই। সালটা ১৯৮৩ বা ১৯৮৪। ‘ডিস্কো ডান্সার’ মুক্তি পেয়েছে। মামার বাড়িতে কে’টেছে ছোটবেলা। ছোটমামার একটা টেপ-ডেক-এর দোকান ছিল পাড়ার মোড়ে। বিকেল হলেই বাজত ‘ডিস্কো ডান্সার’-এর জিমি জিমি …। পাগলের মতো ছুটে যেতাম পাড়ার মোড়ে, আর নাচতাম। বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠল ‘সারিয়েল’ জগত্‍, আমার নিজের জগত্, সিনেমা।

সব অখ্যাত, কুখ্যাত সিনেমা পছন্দ। সঙ্গে তাদের হিরোইনদেরও। মায়ের কোনো ‘ইনহিবিশন’ ছিল না। হয়তো মা আমাকে ছোটবেলা থেকেই ‘অ্যাডাল্ট’ ভাবত। আমি যে সময় মডেলিং শুরু করি, সেটা ছিল ২০০২ বা ২০০৩। চারধারে তখন অনেক সাহসী মহিলা। তাঁরা হয়তো কেউ ‘ফেমাস’ নন। কিন্তু সে সময় তাঁদের মধ্যে একটা জোশ ছিল। মডেলিংয়ের এই ‘ফ্রি স্পিরিটেড পার্সোনালিটি’ নিয়ে আমি যখন

টেলিভিশনে আসি, তখন হয়তো বাংলা টেলিভিশনে ‘ফ্রেশ স্কিন’-এর দরকার ছিল। আই মিন, আই কেম উইথ স্মার্টনেস আনইনহিবিটেড ফ্রিডম ফর আদার্স টু গিভ দেম আ পারসপেকটিভ টু লুক অ্যাট আ উওম্যান উইথ লেস ক্লোদস। মিলান কুন্ডেরা যেমন লিখেছেন, ‘আই গেভ আ কনসেন্ট টু মেক মাই বডি পাবলিক ইন আ মুভিং ইমেজ।’ তাতে ইন্ডাস্ট্রিতে আমার নাম হল ‘খোলামেলা ঋ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *