Categories
Uncategorized

৩ বছর ওর বিছানায় ঘুমাতাম, বিয়ে না করে ব্ল্যা’কমেইল করায় দুধের সঙ্গে বি’ষ খাইয়ে অ’চেতন করে খু’ন করেছি

৩ বছর রাতের বেলা আমি তার সঙ্গে বিছানায় সময় কা’টাই। স্বামী-স্ত্রীর মতো আমরা বসবাস করি। বিয়ের কথা বলে সে একটি ভুয়া কাবিন করে। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ছবি মোবাইলফোনে ধারণ করে ব্ল্যা’কমেইল করে।

কবিরাজ: তপন দেব । নারী-পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

এরপর আমার ছোট বোনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে। এ কারণে ক্ষু’ব্ধ হয়ে প্রথমে দুধের সঙ্গে বি’ষ এবং পরে হোটেল মেহেরপুরের ২০৬ নম্বর কক্ষে নিয়ে গ’লায় রশি পেঁ’চিয়ে হ’ত্যা করি।’ সিলেটের মদন মোহন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক সাইফুর রহমানের লোমহর্ষক খু’নের ঘটনার বিবরণ এভাবেই দিয়েছে ঘা’তক ছাত্রী নিশাত তাসনিম রুপা।

গতকাল প্রথমে পুলিশের জি’জ্ঞাসাবাদে এবং বিকালে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যা’জিস্ট্রেট তৃতীয় আ’দালতের বিচারক সাইফুর রহমানের আ’দালতে দেয়া স্বী’কারোক্তিমূলক জবানব’ন্দিতে এই তথ্য জানায়।

রোববার রাতে নি’হত কলেজ শিক্ষক সাইফুরের মা রনিফা বেগম বা’দী হয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানায় মা’মলা করেন। এদিকে রাতে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশ রুপা ও তার প্রেমিককে আলাদা আলাদা ভাবে জি’জ্ঞাসাবাদ করে। জি’জ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশকে জানায় খু’নের ঘটনাবলী।

পরে গতকাল বিকালে তাদের আ’দালতে হাজির করলে আ’দালতেও তারা একই ধরনের স্বী’কারোক্তি দেয়। জি’জ্ঞাসাবাদে নিশাত তাসনিম রুপা জানায়, কলেজ শিক্ষক সাইফুর রহমান প্রায় ৫ বছর ধরে তাদের বাড়িতে লজিং মাস্টার হিসেবে বসবাস করছেন। তার কাছে সে ও তার ছোট বোন পড়ালেখা করে। প্রায় ৪ বছর আগে থেকেই সাইফুরের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এক বছর তাদের মধ্যে প্রেম চলার পর হঠাৎ একদিন সাইফুরের ডাকে বিছানায় যায় সে। তাদের মধ্যে দৈহিক সম্পর্ক হয়। প্রায় তিন বছর ধরে প্রতি রাতেই সাইফুরের সঙ্গে তার ঘরেই ঘুমাতো সে। তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাস করতো। রাত একটা হলেই সে ছুটে যেতো সাইফুরের কাছে।

বি’ষয়টি বাড়ির লোকজন প্রথমে জানতে পারেনি। প্রায় ৬ মাস ধরে বাড়ির লোকজন বি’ষয়টি একটু একটু শুনতে পান। এ নিয়ে রুপা তার প্রেমিক কলেজ শিক্ষক সাইফুরকে বিয়ের জন্য চা’প দেয়।

সাইফুর প্রেমিকার চা’পে পড়ে একটি ভুয়া কাবিননামাও করে। এদিকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি প্রায় সময়ই সাইফুর নিজের মোবাইলফোনে ক্যামেরাব’ন্দি করে রাখে। এসব ছবি দিয়ে তাকে প্রায়ই ব্ল্যা’কমেইল করা হতো বলে জি’জ্ঞাসাবাদে রুপা স্বী’কারোক্তি দেয়। এই ফাঁকে রুপার ছোট বোনের সঙ্গেও সম্পর্ক গড়ে তোলে সাইফুর রহমান।

বি’ষয়টি রুপার চোখে ধরা পড়ে। সে এ নিয়ে প্র’তিবাদ করে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দ্ব’ন্দ্ব শুরু হয়। বি’ষয়টি তাদের পরিবার পর্যন্ত গড়ায়। সবার মধ্যে জানাজানি হয়।

এ নিয়ে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে রুপার ভাই সহ আত্মীয়স্বজনরা সাইফুরকে তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। সাইফুর এসে উঠে টিলাগড়ের একটি মেসে। কিন্তু ওখানে থাকলেও সে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি দিয়ে ব্ল্যা’কমেইল করার চেষ্টা করে। এসব ছবি রুপার ভাইয়ের কাছেও পাঠিয়ে দেয়।

এতে সাইফুরের ও’পর চ’রম ক্ষু’ব্ধ হয় রুপা। শনিবার সকালেই সাইফুরকে ফোন করে রুপা দেখা করতে চায়। ডেকে নিয়ে যায় সিলেটের এমসি কলেজের নির্জন টিলার উপর।

সেখানে সাইফুরকে রুপা বি’ষ মাখানো সেমাই ও দুধ খাওয়ায়। এরপর সাইফুর অ’সুস্থ হয়ে পড়লে তাকে নিয়ে চলে আসে নগরীর সুবহানীঘাটের হোটেল মেহেরপুরে। হোটেলের ম্যানেজারকে রুপা কাবিন দেখিয়ে বলে তারা স্বামী-স্ত্রী। ডাক্তার দেখাতে এসেছেন। একটি রুম দেয়ার জন্য বলেন।

কথামতো ম্যানেজার কাবিন রেখে রুপা ও সাইফুরকে ২০৬ নম্বর কক্ষ দেন। সাইফুরকে ওই কক্ষে নিয়ে যান রুপা। সেখানে যাওয়ার পর সাইফুর অজ্ঞান হয়ে পড়ে।

এরপর রুপা তার ভ্যানেটি ব্যাগের ভেতরে রাখা দড়ি বের করে। আর ওই দড়ি দিয়ে সে সাইফুরের গ’লা পেঁ’চিয়ে ধরে। এক সময় সাইফুরের দেহ নিথর হয়ে পড়লে রুপা ফোন দেয় তার প্রেমিক মোজাম্মিলকে। একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে আসার জন্য বলে।

মোজাম্মিল তখন নগরীর মদিনা মার্কেট থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে মেহেরপুর হোটেলের ২০৬ নম্বর কক্ষে যায়। ওখান থেকে তারা ‘গু’রুতর অ’সুস্থ’ বলে সাইফুরকে কোলে করে নিয়ে এসে গাড়িতে তোলে।

এ সময় তারা হোটেলে ম্যানেজারকে জানায়, তার স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে। সিএনজি চালককেও বলে তার স্বামী অ’সুস্থ। একটু পর রুপা আবার সিএনজি চালককে বলে তার স্বামী মা’রা গেছে। এখন লা’শ কী করবে? পরে তারা সিদ্ধান্ত নিয়েই শনিবার বেলা ১টার দিকে সাইফুরের লা’শ সুনামগঞ্জ বাইপাসের রেনেটা কোম্পানির ওখানে রাস্তার পাশে ফে’লে আসে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি খায়রুল ফজল জানিয়েছেন, শনিবার দুপুর ১টার থেকে কলেজ শিক্ষক সাইফুরের লা’শ ওখানে পড়েছিল। কেউ খেয়াল করেনি।

রাতেও একই স্থানে ছিল। পরের দিন সকাল ১১টার দিকে তাদের কাছে খবর আসে। এরপর তারা গিয়ে লা’শ উ’দ্ধার করেন। তিনি বলেন, রাতে থানায় রুপা ও তার প্রেমিক মোজাম্মিলকে জি’জ্ঞাসাবাদ করলে তারাও খু’নের ঘটনা স্বীকার করে। এবং পুরো ঘটনাবলী পুলিশকে জানায়। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) জেদান আল মুছা মানবজমিনকে জানিয়েছেন, রুপার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তারা দৈহিক মিলন করে। আর এই দৃশ্য ক্যামেরাব’ন্দি করে রেখে রুপাকে ব্ল্যা’কমেইল করা হয়।

এ কারণে ক্ষু’ব্ধ হয়ে রুপা তার প্রেমিক কলেজ শিক্ষক সাইফুরকে খু’ন করেছে বলে জি’জ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে। তিনি বলেন, আ’দালতে স্বী’কারোক্তি দেয়ার পর রুপা ও তার প্রেমিকা সাইফুরকে কা’রাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখন ত’দন্ত করে আ’দালতে চার্জশিট দেবে। উৎস: মানবজমিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *