Categories
Uncategorized

‘শুধরে যান, ৩০ দিন সময় দিলাম’; ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

করোনা ভাইরাস নিয়ে চিনের মিথ্যাচারে সঙ্গ দিচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। এই অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এবার চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিল আমেরিকা। চিঠি লিখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ৩০দিন সময় দেওয়া হল এই সংস্থাকে, এর মধ্যে নিজেদের অবস্থান ও ভূমিকা বদলাতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে ট্যুইট করে সেই চিঠি প্রকাশ করেন ট্রাম্প নিজে। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, হু ক্রমাগত নিজেদের ভূমিকাকে অস্বচ্ছ করে তুলেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর কিংবা তার আগে থেকেই করোনা নিয়ে একাদিক রিপোর্ট হু-কে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তা অনবরত অগ্রাহ্য করে গিয়েছে তারা। যার ফল আজ ভোগ করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। উহানে যে করোনা মহামারীর আকার নিচ্ছে, তা হু জানত। কিন্তু তথ্য চেপে রেখেছিল। অভিযোগ ট্রাম্পের।

ট্রাম্প আরও জানান, ২০১৯ সালের ৩০শে ডিসেম্বর তাইওয়ান হু-কে জানিয়েছিল উহানের কথা। কিন্তু গ্রাহ্য করা হয়নি। সেদিন ব্যবস্থা নিলে, আজ এই দিন দেখতে হত না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিযোগ চিন যে তথ্য চেপে রেখেছে তাও জানত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। কিন্তু তারাও মুখ খোলেনি। করোনা মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরেও করোনার উৎস নিয়ে মুখ খোলেনি হু।

এর আগে একাধিকবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পরেও চিনের একাধিক তথ্য গোপন করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হু-কে অর্থ সাহায্য বন্ধ করারও হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন চিনে করোনা মহামারি ছড়িয়ে পড়াকে বিশ্বের কাছে সঠিক গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেনি WHO। বিশ্বব্যাপী করোনার বিস্তারে হু-এর অস্বচ্ছ ভূমিকা রয়েছে। এ ব্যাপারে হু-এর কাজকর্ম পর্যালোচনা করা হবে, তারপরেই হু-কে টাকা দেওয়া যায় কিনা তা পুনর্বিবেচনা করা হবে। ট্রাম্পের দাবি মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে হু। চিনের দেওয়া তথ্যের ওপর নির্ভর করে এগোনোর ফলে বিশ্বে করোনা হানার ভয়াবহতা ২০ গুণ বেশি বেড়েছে, যা কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

এদিকে, সোমবারই বেজিংয়ের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির তদন্তে রাজি তারা। সোমবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বৈঠকে চিন জানায় স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বপূর্ণ তদন্তে রাজি তারা। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং একথা জানান।

এর আগে, করোনা ভাইরাসের উৎস কি, তার উত্তর চিনের কাছে পাওয়ার চেষ্টা করে দেশগুলি। কীভাবে গোটা বিশ্বে করোনা মহামারীর আকার নিল, তার দায় কার, এই প্রশ্নও উঠে আসে এবারের বৈঠকে। চিনকে কোণঠাসা করার ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

সব মিলিয়ে এবারের বৈঠকে হার মেনে চিন তদন্তে সাড়া দিয়েছে। হু-র ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল, তারও নিরপেক্ষ তদন্তে রাজি হয়েছে বেজিং বলে খবর। প্রেসিডেন্ট জিনপিং বলেন নিরপেক্ষ তদন্তের ভাবনাকে সবসময় সমর্থন করে চিন। এতে করোনার উৎস সন্ধান করতে সুবিধা হবে। তবে উল্লেখ্য প্রাথমিকভাবে ওয়াশিংটন ও ক্যানবেরার তদন্তের ভাবনাকে খারিজ করে দিয়েছিল বেজিং।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *