Categories
Uncategorized

লকডাউন খুলে দিলে ৫ সঙ্কটে পড়বে সরকার

আগামীকাল থেকে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সরকার অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্যে একটি ঝুঁকি নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে যখন করোনা সংক্রমণ উর্ধ্বমূখী তখন সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন নিলো এই প্রশ্ন উঠেছে অনেকের মধ্যে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল মহল মনে করছে যে, বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে তাঁর একটি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং করোনার ক্ষতির চেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে।

কবিরাজ: তপন দেব । নারী-পুরুষের সকল জটিল ও গোপন রোগের চিকিৎসা করা হয়। দেশে ও বিদেশে ওষুধ পাঠানো হয়। আপনার চিকিৎসার জন্য আজই যোগাযোগ করুন – ০১৮২১৮৭০১৭০ (সময় সকাল ৯ – রাত ১১ )

এই সমস্ত বাস্তবতা বিবেচনা করেই সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এই সিদ্ধান্ত হিতে বিপরীত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক। তাঁরা মনে করছেন, এই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে সরকার আরো নতুন সঙ্কটে পড়তে পারে। এই নতুন সঙ্কটের ধরন-প্রকৃতিকে ৫ভাগে ভাগ করছেন বিশ্লেষকরা।

১. জনস্বাস্থ্যের সঙ্কট

করোনা শনাক্ত রোগী এভাবে বাড়তেই থাকলে তাহলে করোনায় মুমূর্ষূ রোগীর সংখ্যা বাড়বে, মৃত্যুহার বাড়বে, হাসপাতালগুলোতে জায়গা দেওয়া দুষ্কর হয়ে পড়বে। শুধু করোনা নয়, অন্যান্য চিকিৎসা প্রদানও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে এটা সরকারের উপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং সরকারকে জনস্বাস্থ্যের সঙ্কটে ফেলবে।

২. রাজনৈতিক সঙ্কট

সবকিছু খুলে দেওয়ার ফলে একটি নেতিবাচক মনোভাব এবং এক ধরণের অনাস্থা তৈরি হবে এবং এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো। তাঁরা সরকার জনবান্ধব নয়, সরকার জনগণের কথা চিন্তা করেনা ইত্যাদি কথাবার্তা বলতে শুরু করবে, যা ইতিমধ্যে বিএনপি বলতে শুরু করেছে। ফলে সরকারের উপর একটি রাজনৈতিক চাপ বাড়বে এবং করোনা সঙ্কটের পাশাপাশি এই সঙ্কটও মোকাবেলা করতে হবে সরকারকে।

৩. অর্থনৈতিক সঙ্কট

অর্থনীতিকে সচল রাখার জন্য সরকার সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তে অর্থনৈতিক সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে সরকার। কারণ করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক হবেনা। আর এই কারণে ক্ষুদ্র-মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরণের ছাঁটাই প্রক্রিয়া শুরু করবে। সীমিত আকারে অফিস-আদালত চালু করতে গিয়ে প্রচুর মানুষ কাজ হারাবে বলে অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা করছেন। সাথে সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতে না আসলে বা স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিলে অর্থনীতির যে গতি সঞ্চারের আশা তা না হয়ে বিপরীত ধারা লক্ষ্য করা যেতে পারে। ফলে সবকিছু খুলে দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তা হিতে বিপরীত হতে পারে বলে অনেকে ধারণা করছেন।

৪. বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হতে পারে

বিদেশে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিতে পারে। কারণ করোনা সঙ্কট মোকাবেলার জন্য অন্যান্য দেশগুলো যে পথ এবং পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, সেই পথ এবং পদ্ধতি বাংলাদেশের জন্য না করে সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ইমেজ ক্ষুণ্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যদি দীর্ঘ সময় করোনা থাকে তাহলে বিদেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি করার ক্ষেত্রে নিত্যনতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক মহলে নষ্ট হতা পারে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

৫. সরকারের সমন্বয়ের সঙ্কট

শেষ পর্যন্ত যদি করোনা সঙ্কট বাড়তে থাকে তাহলে রীতি অনুযায়ী আমলারা দ্বায় নেবে না, একে অন্যকে দোষারোপ করবে। কার কত ব্যর্থতা, দোষ ইত্যাদি খোঁজার প্রতিযোগিতা শুরু হবে এবং এর ফলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের মধ্যে তীব্র সমন্বয়হীনতা দেখা যাবে। এর ফলে সরকারের কাজকর্মের গতি শ্লথ হয়ে যাবে, স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত সৃষ্টি হবে। এর কারণে নতুন সঙ্কটে পড়তে পারে সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, খুলে দেওয়ার পর আগামী ৭ থেকে ১০ দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই বিষয়গুলো দেখভাল করতে হবে। তাহলে যে উদ্দেশ্যে সরকার সবকিছু খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা সফল হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *